শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

বেকারত্বের কারণ ও প্রতিকার

Author

তামিম নূরানী প্রেমা , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬ পাঠ: ২৪ বার

আমাদের দেশে বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থী বাড়ার সাথে সাথে বেকারত্বের পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। দেশে প্রতিবছর বহু শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকডিগ্রি অর্জন করছে তবে এর তুলনায় চাকরি পাচ্ছে খুবই অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী। প্রথমত,এর মূল কারণ হিসেবে লক্ষ্য করা যায় শিক্ষার্থীদের তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের ব্যস্ততা।তাছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গবেষণার সুযোগ না থাকায় ব্যবহারিক কোনো কাজে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানার্জন করতে পারে না। ফলে বাস্তবজীবনে সমস্যা সমাধান তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক সমাজে এগিয়ে থাকতে হলে তাত্ত্বিক জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞানও প্রয়োজন।

 

দ্বিতীয়ত, দেশে মেধাবী এবং দক্ষ শিক্ষার্থী থাকলেও কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে শিক্ষার্থীরা বিদেশমুখী হয়ে পড়ে। মেধাবী শিক্ষার্থী রাষ্ট্রের সম্পদ। কিন্তু মেধাবী শিক্ষার্থী দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমালে তা একটি দেশের জন্য কতটুকু মঙ্গলজনক?

 

তাছাড়াও দেশে মেধাবী শিক্ষার্থীদের বেকারত্বে জীবন কাটানোর আর একটি কারণ হলো কর্মসংস্থানে দুর্নীতি এবং স্বজনপ্রীতি। মাঝে মাঝে এসকল দুর্নীতির ফলে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যোগ্যপ্রার্থীরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়।

 

বেকারত্ব একটি দেশের জন্য অভিশাপ। কেননা বেকারত্বের ফলে তরুণসমাজ হতাশায় জর্জরিত হয় যা তাদের আত্মহত্যার মতো জঘন্য কাজের দিকে ঠেলে দেয়। দেশে প্রতিবছর আত্মহত্যার পেছনের কারণ হিসেবে বেকারত্বের প্রভাব লক্ষণীয়। এছাড়াও মাদকাসক্ত হওয়ার প্রবণতাও লক্ষ্য করা যায়।

 

যদিও বর্তমান সময়ে বেকারত্বের সংকট এড়াতে সরকারি বিভিন্ন পদক্ষপ গ্রহণ করা হয়েছে

তবে এক্ষেত্রে নাগরিক হিসেবে আমরাও কিছু উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি। যেমন – নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোক্তা তৈরি করতে পারি।  এবং তথাকথিত সরকারি চাকরির পেছনে না ছুটে সম্মানজনক যেকোনো পেশা গ্রহণ করতে যুবসমাজকে উৎসাহিত করতে পারি। পাশাপাশি কর্মপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি এড়াতে সমাজের সকলকে সচেতন করতে পারি এর ফলে দুর্নীতি অনেকাংশই কমে আসবে। কেননা বেকারত্ব নির্মূল শুধু রাষ্ট্রের একার দায়িত্ব নয়। দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদেরও সরকারের পাশে থেকে কাজ করতে হবে।

 

তামিম নূরানী প্রেমা

শিক্ষার্থী

ইংরেজি বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

লেখক: সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!