খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করুন
কোরবানির ঈদকে ঘিরে খামারিরা দীর্ঘ এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া সমযত্নে লালনপালন করেন, স্বপ্ন দেখেন বছর শেষে লাভবান হওয়ার। কিন্তু দুঃখজনক হলো, প্রতিবছরই একটি চক্রের কারসাজিতে খামারিদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। বর্তমানে গো-খাদ্যের (খড়, ভুসি, ভুট্টা, খেসারি, মটর ও খৈল) অস্বাভাবিক দাম এবং ওষুধের উচ্চমূল্যের কারণে প্রতিটি পশুর উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অথচ বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে খামারিরা তাদের উৎপাদিত পশুর কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না।
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, খামারিরা যখন লোকসানে পশু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, ঠিক তখন সাধারণ ক্রেতারা চড়া দামে কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এই ব্যবস্থার পুরো ফায়দা লুটছে ফড়িয়া ও দালাল চক্র, যারা খামারি ও ক্রেতা—উভয়কেই জিম্মি করে রেখেছে।
কোরবানির হাটে খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ এটি অর্থনীতিতে প্রতিবছর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রতিটি পশুর হাটে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বাড়াতে হবে, যাতে খামারিরা কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানির শিকার না হন। দ্বিতীয়ত, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রাখতে “খামারি সরাসরি বিক্রয় কেন্দ্র” বা বিশেষ হাটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এছাড়া, আমদানিকৃত পশুর চেয়ে দেশীয় খামারিদের লালনপালন করা পশুর অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
