খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করুন
প্রতিটি কোরবানির ঈদকে ঘিরে খামারিরা দীর্ঘ এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়া মোটাতাজা করেন, স্বপ্ন দেখেন বছরের শেষে কিছু লাভবান হওয়ার। কিন্তু দুঃখজনক হলো, প্রতিবছরই একটি চক্রের কারসাজিতে খামারিদের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়ে যায়। বর্তমানে গো-খাদ্যের যেমন : খড়, ভুষি, ভূট্টা, খৈল, মসুরী, মাছ ও ঔষধের অস্বাভাবিক দাম এবং ওষুধের উচ্চমূল্যের কারণে প্রতিটি পশুর উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে। অথচ বাজারের অস্থিরতা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে খামারিরা তাদের উৎপাদিত পশুর কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, খামারিরা যখন লোকসানে পশু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, ঠিক তখনই সাধারণ ক্রেতারা চড়া দামে কোরবানির পশু কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। এই ব্যবস্থার পেছনে পুরো মুনাফা লুটছে ফড়িয়া ও দালাল চক্র, যারা খামারি ও ক্রেতা—উভয়কেই জিম্মি করে রেখেছে। কোরবানির পশুর হাটে খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারকে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রতি বছর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। প্রথমত, প্রতিটি কোরবানির পশুর হাটে স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে, যাতে খামারিরা কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা হয়রানির শিকার না হন। দ্বিতীয়ত, মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাবমুক্ত রাখতে বিশেষ হাটের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এ ছাড়া আমদানি করা পশুর চেয়ে দেশীয় খামারিদের লালন-পালন করা পশুর অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই, কোরবানির ঈদকে যেন যথাযথ বাজার মনিটরিং ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার মাধ্যমে খামারিদের কষ্টের মূল্যায়ন করা হয়।
