বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

তৃতীয় অধ্যায়: সদস্যপদ ও সংশ্লিষ্ট বিধান

সংগঠনে অন্তর্ভুক্তি (সহযোগী সদস্য)

ধারা-১৩: যদি কোনো শিক্ষার্থী এই সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য এবং কার্যক্রমের সাথে একাত্মতা পোষণ করেন, তবে তিনি সংগঠনের সহযোগী সদস্যপদ লাভ করতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী এই সংগঠনের সহযোগী সদস্যপদ লাভ করবেন যদি তিনি-

(ক) লেখালেখির ব্যাপারে পূর্ণ আগ্রহী হন,

(খ) মাধ্যমিক/উচ্চমাধ্যমিক/বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থী হন,

(গ) বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের নীতিমালা যথাযথভাবে মেনে চলতে সম্মত হন,

(ঘ) নির্ধারিত ফি প্রদানপূর্বক সদস্য আবেদন ফরম পূরণ করেন।

সদস্যপদ লাভ

ধারা-১৪: কোনো সহযোগী সদস্য যদি ১৩ নং ধারায় বর্ণিত শর্তাবলি সম্পূর্ণরূপে পালন করেন, সহযোগী সদস্য হিসেবে ছয় (০৬) মাস অতিবাহিত করেন, জাতীয় প্রিন্ট পত্রিকায় কমপক্ষে ০৫টি লেখা প্রকাশ করেন এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করেন, তবে তিনি শাখা কার্যনির্বাহী পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতিক্রমে সদস্যপদ লাভ করতে পারবেন।

সদস্যদের দায়িত্ব ও কর্তব্য

ধারা-১৫: সদস্যপদ লাভের পর বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের সদস্যবৃন্দকে নিম্নোক্ত দায়িত্বাবলি পালন করতে হবে:

(ক) সংগঠনের সাপ্তাহিক ও মাসিক সভায় নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হবে।

(খ) প্রতি মাসে ন্যূনতম একটি লেখা প্রকাশ করতে হবে।

(গ) নতুন লেখক তৈরিতে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি তাদের সার্বিক সহযোগিতা করতে হবে।

(ঘ) লেখালেখির মাধ্যমে সংগঠনের মূলমন্ত্র, স্লোগান, শপথ এবং লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য যেন প্রতিফলিত হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

(ঙ) প্রতি বছর নির্ধারিত বাৎসরিক চাঁদা প্রদান করতে হবে।

সদস্যপদ বাতিল

ধারা-১৬: একজন সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে যদি তিনি-

(ক) স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন এবং তা কার্যনির্বাহী পর্ষদ কর্তৃক গৃহীত হয়,

(খ) একাধারে তিনটি মাসিক সভায় অনুপস্থিত থাকেন,

(গ) একাধারে ০২ (দুই) মাস লেখালেখি করা থেকে বিরত থাকেন,

(ঘ) সংগঠনের নীতিমালাবিরুদ্ধ আচরণ করেন,

(ঙ) রাষ্ট্রকর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো সংগঠনে জড়িত থাকেন,

(চ) বাংলাদেশের সংবিধান বিরোধী ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন লেখালেখি করেন,

(ছ) অশোভন, বিশৃঙ্খল আচরণ বা কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকেন,

(জ) সংগঠনবিরোধী ষড়যন্ত্রমূলক কোনো কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লিপ্ত থাকেন।

(ঝ) এছাড়াও একজন সদস্যের বয়স ৩০ অতিবাহিত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার সদস্যপদের মেয়াদ শেষ বলে গণ্য হবে।

সদস্যপদ বাতিল প্রক্রিয়া

ধারা-১৭: সংগঠনের সদস্যদের সদস্যপদ বাতিলের প্রক্রিয়া হবে নিম্নরূপ:-

(ক) শাখার কোনো সদস্য যদি স্বেচ্ছায় সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিতে চান, তবে তিনি শাখা কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতির নিকট আবেদন করবেন। উক্ত আবেদনপত্র শাখা কার্যনির্বাহী পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য কর্তৃক অনুমোদিত হলে সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে।

(খ) কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের কোনো সদস্য যদি স্বেচ্ছায় সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিতে চান, তবে তিনি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতির নিকট আবেদন করবেন। উক্ত আবেদনপত্র কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য কর্তৃক অনুমোদিত হলে তার সদস্যপদ বাতিল বলে গণ্য হবে।

(গ) শাখার কোনো সদস্য যদি ১৬ নং ধারায় বর্ণিত কার্যাবলির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকেন এবং উক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হলে শাখা কার্যনির্বাহী পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদনক্রমে তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা যাবে।

(১) তবে উক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা প্রমাণিত হলে শাখা কার্যনির্বাহী পর্ষদের জ্ঞাতানুসারে তার উপর আনিত বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।

(২) তদন্তে আনিত অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এবং উক্ত সদস্য যদি নিজ কৃতকর্মের জন্য দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাহলে শাখা কার্যনির্বাহী পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে তাকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা যেতে পারে।

(ঘ) শাখা কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের কোনো সদস্য যদি ১৬ নং ধারায় বর্ণিত কার্যাবলির সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকেন এবং উক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ দায়ের হলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদনক্রমে উক্ত সদস্যকে সাময়িক বহিষ্কার করা যাবে।

(১) তবে উক্ত সদস্যের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে মিথ্যা প্রমাণিত হলে বহিষ্কারাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের জ্ঞাতানুসারে প্রত্যাহার করতে হবে।

(২) তদন্তে আনিত অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে এবং উক্ত সদস্য যদি নিজ কৃতকর্মের জন্য দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন, তাহলে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে তাকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা যেতে পারে।

(ঙ) শাখার কোনো সদস্যের অপরাধ গুরুতর হলে ধারা ১৭(গ) কার্যকরের পর সদস্যপদ আজীবন বাতিল করার জন্য শাখা কার্যনির্বাহী পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদনক্রমে শাখা কার্যনির্বাহী পর্ষদ সভাপতি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদ সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ করবেন। সংগঠনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পর্ষদের সভাপতি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সিদ্ধান্ত ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাবৃন্দের সাথে পরামর্শক্রমে উক্ত সদস্যের সদস্যপদ স্থায়ীভাবে রহিত করতে পারবেন।

(চ) শাখা কার্যনির্বাহী পর্ষদের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের কোনো সদস্যের অপরাধ গুরুতর হলে ধারা ১৭(ঘ) কার্যকরের পর সদস্যপদ আজীবন বাতিল করার জন্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদ সভাপতি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের অনুমোদনক্রমে ও সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাবৃন্দের সাথে পরামর্শক্রমে উক্ত সদস্যের সদস্যপদ স্থায়ীভাবে রহিত করতে পারবেন।

(ছ) প্রয়োজন সাপেক্ষে সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টাবৃন্দের সাথে পরামর্শক্রমে বহিষ্কৃত সদস্যের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।

স্থায়ী পর্ষদ

ধারা-১৮: বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের নীতি, মূল্যবোধ,ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা রক্ষা ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পর্ষদকে পূর্ণমাত্রায় সহযোগিতা করার জন্য একটি স্থায়ী পর্ষদ গঠন হবে ।

স্থায়ী পর্ষদ গঠন:

১. প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থায়ী পর্ষদ সদস্য হবেন ।

২. সংগঠনের প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ, নিষ্ঠা ও দীর্ঘদিনের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় পর্ষদের সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দকে স্থায়ী পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের মাধ্যমে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা যাবে ।

৩. কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব শেষ হবার দুই বছর পর স্থায়ী পর্ষদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন । অতঃপর ব্যক্তিগত আবেদন অথবা স্থায়ী পর্ষদ সদস্যদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদককে আমন্ত্রণপূর্বক সম্মতি প্রদানের পর স্থায়ী পর্ষদের অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে ।

৪. নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির আগে সংগঠনের গঠনতন্ত্র ও নীতিমালার প্রতি আনুগত্য ঘোষণা করে লিখিত সম্মতিপত্র জমা দিতে হবে।

৫. ৬ নভেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দে সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দের সভায় ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিষ্ঠা সময় থেকে ২০২৩-২৪ কার্যবছর পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকারী কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ স্থায়ী পর্ষদের সদস্য হবে ।

৬. স্থায়ী পর্ষদে অন্তর্ভুক্তির পর থেকে স্থায়ী পর্ষদ সদস্যের মেয়াদ হবে ৫ বছর।

৩. কার্যাবলি

স্থায়ী পর্ষদের নিয়মিত ত্রৈ-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হবে। স্থায়ী পর্ষদের জ্যেষ্ঠ সদস্য পদাধিকারবলে স্থায়ী পর্ষদের সভা আহ্বান করবেন এবং স্থায়ী পর্ষদের সভা সমূহে সভাপতিত্ব করবেন।

৪. সদস্যপদ বাতিল

স্থায়ী পর্ষদের সদস্যদের সদস্যপদ বাতিল হবে যদি তিনি-

(ক) স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন,

(খ) বাংলাদেশের সংবিধান ও রাষ্ট্রবিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয় এমন লেখালেখি বা কার্যক্রমের সাথে যুক্ত থাকেন,

(গ) সংগঠন বিরোধী কোনো ষড়যন্ত্রে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে লিপ্ত থাকেন।

(ঘ) স্থায়ী পর্ষদের কোনো সদস্য যদি ১৮(৪)-এর খ, গ ধারায় বর্ণিত বিষয়সমূহের সাথে সম্পৃক্ত থাকেন, তবে স্থায়ী পর্ষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে উক্ত সদস্যের সদস্যপদ বাতিল হবে। সংগঠনের আজীবন উপদেষ্টা পর্ষদ উক্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

অ্যালামনাই

ধারা-১৯                        

(ক) সংগঠনের বিদায়ী সদস্যদের নিয়ে বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরামের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠিত হবে। এটি সংক্ষেপে ‘বিওয়াইসিডাব্লিউএফ অ্যালামনাই’ হিসেবে পরিচিত হবে। তবে সংগঠন থেকে বহিষ্কার হওয়া কোনো সদস্য ‘বিওয়াইসিডাব্লিউএফ অ্যালামনাই’তে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন না।

(খ) কোনো সদস্যের বয়স ৩০ বছর অতিবাহিত হলে বা বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করলে তিনি উক্ত অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হবেন।