বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

দক্ষ জনশক্তি গঠনে স্কাউট আন্দোলন

Author

আখতার হোসেন আজাদ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ পাঠ: ৬৩ বার

স্কাউট একটি আন্তর্জাতিক, বিশ্ব ভ্রাতৃত্বমূলক অরাজনৈতিক, ধর্মনিরপেক্ষ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক সংগঠন। বন্ধুত্বের মাধ্যমে সেবা প্রদানের জন্য বহুল জনপ্রিয় সংগঠন এটি। ১৮৫৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন স্কাউট আন্দোলনের জনক রবার্ট স্টিফেনশন স্মিথ লর্ড ব্যাডেন পাওয়েল অব গিলওয়েল। তবে স্কাউট সদস্যদের কাছে তিনি বিপি নামেই অধিক পরিচিত। সাধারণত ৬ থেকে ২৫ বছর বয়সী শিশু, কিশোর ও যুবকদের নিয়ে গঠিত হয় এই সংগঠন। যুবসমাজের নৈতিকতার উন্নতি সাধন, দক্ষ জনশক্তি গঠন, নেতৃত্বের যোগ্যতা তৈরি, সুপ্ত প্রতিভার বিকাশে এটি একটি স্বতন্ত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে প্রায় সকল দেশেই স্কাউট আন্দোলন চলছে। সারা বিশ্বের স্কাউটরা বিভিন্ন ক্রান্তিকালে সম্পূর্ণ নিঃস্বার্থভাবে মানবতার সেবায় নিজেকে সমর্পণ করে চলেছে। বাংলাদেশেও স্কাউট কার্যক্রম দূর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় অধিকাংশ বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় স্কাউটিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে দেশে স্কাউট সদস্যদের সংখ্যা প্রায় ১৮ লক্ষ। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে ২১ লক্ষ স্কাউট সদস্য তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
স্কাউট আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা ব্যাডেন পাওয়েল কর্মজীবনে সেনা কর্মকর্তা ছিলেন। ১৮৯৯ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষুদ্র সীমান্ত শহর ম্যাফ্যেকিংয়ে তিনি ২১৭ দিন বুয়রদের দ্বারা অবরুদ্ধ ছিলেন। এসময় তিনি ছোট-ছোট ছেলেমেয়েদের দলে দলে বিভক্ত করে শত্রুপক্ষের দুর্গে দুর্গে সংবাদ আদান-প্রদানের কাজে ব্যবহার করেছিলেন এবং তারা অত্যন্ত সফলতার সাথে সে কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছিল। তখন ব্যাডেন পাওয়েল পরিকল্পনা করলেন এইসব ছেলেমেয়েদের সংঘবদ্ধ করতে পারলে বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও তারা সফলভাবে অংশগ্রহণ করতে পারবে। এ চিন্তা থেকে ১৯০৭ সালে ইংল্যান্ডের ব্রাউন্সি দ্বীপে ব্যাডেন পাওয়েল মাত্র ২০ জন বালক নিয়ে স্কাউট আন্দোলন শুরু করেন। কালক্রমে তা সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়ে ইংল্যান্ড ও আমেরিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

১৯৭২ সালের ৯ এপ্রিল গঠিত হয় বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতি। সে বছরেরই ৯ সেপ্টেম্বর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতির ১১১ নং অধ্যাদেশ বলে বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতিকে স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। ১৯৭৪ সালের ০১ জুন বিশ্ব স্কাউট সংস্থা বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতিকে ১০৫ তম জাতীয় স্কাউট সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করে। ১৯৭৮ সালের ১৮ জুন পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিল সভায় বাংলাদেশ বয় স্কাউট সমিতির নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ স্কাউটস’ করা হয়। পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বাংলাদেশ স্কাউটস বিশ্বে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে। ক্ষমতাবলে বাংলাদেশের চীফ স্কাউট হলেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম দীক্ষাপ্রাপ্ত চীফ স্কাউট হলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাংলাদেশে স্কাউট আন্দোলনের বিস্তৃতি লাভে জাতির পিতার অসামান্য ভূমিকা ছিল।

শিশু-কিশোর ও যুবকদেরকে সৃষ্টিকর্তা ও দেশের প্রতি আনুগত্য ও আত্ম-নির্ভরশীলতার শিক্ষা দিয়ে গড়ে তোলা এই আন্দোলনের অন্যতম উদ্দেশ্য। ৬ থেকে ১১ বছর বয়সীদের নিয়ে কাব স্কাউট যাদের মূলমন্ত্র যথাসাধ্য চেষ্টা করা, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের নিয়ে স্কাউট যার মূলমন্ত্র সদা প্রস্তুত আর সেবা মূলমন্ত্র নিয়ে ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের নিয়ে রোভার স্কাউট স্তর গঠিত। নিরক্ষরদের অক্ষরজ্ঞান প্রদান, বৃক্ষরোপণ, টিকাদান, স্যানিটেশন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কর্মসূচী, জ্বালানি-সাশ্রয়ী চুলা নির্মাণ, বন্যা বা বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্কাউট সদস্যদের কার্যক্রম সকল মানুষ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে। এছাড়াও নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থাপনায় স্কাউট সদস্যদের দক্ষতা সকলকে অভিভূত করেছে। স্কাউট সদস্যরা দেশে-বিদেশে বিভিন্ন উদ্ভাবনী ও জনহিতকর কার্যক্রমের মাধ্যমে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছে। স্কাউট আন্দোলন শহর থেকে প্রতিটি গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়ুক, উপকৃত হোক মানবতা; আজ ২২ ফেব্রুয়ারি ‘বিশ্ব স্কাউট দিবসে’ এই প্রত্যাশা করি।

লেখক: প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
প্রকাশিত: দৈনিক ইত্তেফাক
Paper Cutting
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।