বন্দুদের সাথে একদিন চন্ডিছড়া
বন্দুদের সাথে একদিন চন্ডিছড়া
তানভীর আহমদ রাহী
গত ১ আগস্ট শনিবার বিকেলে বন্ধুদের সাথে একদিনের ছোট্ট ভ্রমণে বের হই। গন্তব্য চুনারুঘাটের চন্ডিছড়া চা বাগান। দুপুর ৩টায় আমুরোড বাজার থেকে রওয়ানা। আধা ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছে যাই সবুজে ঘেরা এই বাগানে। দেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকের জন্যও জায়গাটি সহজ। চুনারুঘাট সদর থেকে কলেজরোড হয়ে মাত্র ২০-৩০ মিনিটের পথ। সিএনজি বা অটোতে জনপ্রতি ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। আর রিজার্ভ নিলে ২০০-৩০০ টাকা। ১৯৫০ সালে প্রতিষ্ঠিত চন্ডিছড়া চা বাগান প্রায় ১২০০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত। এখানকার উৎপাদিত চা দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়। বাগানে প্রবেশ করতেই নাকে এসে লাগে কাঁচা চা পাতার মিষ্টি ঘ্রাণ। এই ঘ্রাণ যে কাউকেই মুগ্ধ করবে। উঁচু-নিচু পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নেমে গেছে সারি সারি চা গাছ। রোদের আলোয় পাতাগুলো চিকচিক করে। প্রকৃতির এমন রূপ দেখে মুগ্ধ না হয়ে উপায় নেই।
চন্ডিছড়া ঘুরে আমরা যাই পাশের রামগঞ্জা এলাকায়। এখানকার পরিবেশ আরও মনোরম। পর্যটকদের জন্য রয়েছে সুন্দর একটি যাত্রী ছাউনি। আমরা সেই ছাউনিতে বসে গরম চায়ের কাপে চুমুক দিলাম। এরপর চা বাগানের ভিতরে গিয়ে বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিলাম। এদিক-সেদিক ছবি তোলার পালাও চলল। রামগঞ্জার আসল আকর্ষণ এখানকার স্পেশাল কাঁচা পাথার ঘ্রাণের চা। এক কাপের দাম মাত্র ২০ টাকা। নানান দোকান থাকলেও চা না খেয়ে কেউ ফেরে না। বিকেল হলেই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ আসে। বিকেল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্তই এখানকার সেরা সময়। এই সময়টায় অফিস ফেরত মানুষ, স্থানীয় তরুণ আর পর্যটকদের ভিড়ে জমে ওঠে চন্ডিছড়া। চায়ের কাপ, গল্প আর হাসিতে কেটে যায় সন্ধ্যা। রাত ৮টার পর আস্তে আস্তে ভিড় কমতে থাকে। দিনশেষে সবুজের স্মৃতি আর চায়ের ঘ্রাণ নিয়ে বাড়ির পথে রওয়ানা হই। একদিনের এই ভ্রমণ বুঝিয়ে দেয়, মন ভালো করতে দূরে যাওয়ার দরকার নেই। চুনারুঘাটেই আছে প্রশান্তির ঠিকানা।
তানভীর আহমদ রাহী
চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ
