বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বাধা ভুল বানান

Author

মোঃ হাসনাইন রিজেন , হাটহাজারী সরকারি কলেজ চট্টগ্রাম।

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৪ পাঠ: ৩২ বার

বাংলাদেশের অধিকাংশ বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র ছাত্রীদের রেজিস্ট্রেশন করানোর সময় শিক্ষকগণ তাদের মন মত বাবা-মা ও ছাত্রদের নামের বানান লিখেন। এনআইডি কার্ডের সাথে বাবা মায়ের নামের বানানের তেমন একটা যাচাই করেন না। আর এই সামান্য অসাবধানতাই বাধা হয়ে দাড়াই উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে। ছাত্রছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য যখন বাহিরে যেতে চাই তখন তাদের প্রয়োজন পড়ে পাসপোর্ট এর। আর এই পাসপোর্ট করতে গিয়ে ঝামেলার মুখোমুখি হয় প্রায় প্রতিটি শিক্ষার্থী। কারো নিজের নামের বানানে ভুল থাকে অথবা মা বাবার নামের বানানে ভুল থাকে। আর এই কারণেই পাসপোর্ট করতে তাদের নানা বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।

বর্তমান সময়ের তরুণ লেখিকা শরিফা সুহাসিনী তার ফেসবুক পোস্টে তার এই সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি জানান,আমার উচ্চ শিক্ষার জন্য এই আগস্টের আগে সমস্ত কাগজপত্র দরকার। ইংরেজিতে জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট সব রেডি করে ফেলতে হবে। আজকে সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্ম নিবন্ধন বানাতে এবং অনলাইন করতে আব্বাকে পাঠালাম ইউনিয়ন পরিষদে। কিন্তু তা করতে আব্বা-আম্মার জন্ম নিবন্ধন করা থাকা লাগবে। ওকে ফাইন। ওটাও করবো।

কিন্তু আমার স্কুল-কলেজের সম্মানিত স্যার ম্যামেরা নিজেদের জ্ঞান দিয়ে আমার বাবার নাম আর মায়ের নামের বানান নিজেদের মত বসিয়ে দিয়েছিল সেই সময়। আমাদের কাছে কোনো ডকুমেন্টস চান নাই, ইভেন আমার বয়সও আমার অরিজিনাল বয়সের চেয়ে ২ বছর বেশি!

আমার আব্বা-মায়ের সেই নাম এখন এনাদের ভোটার কার্ডের সাথে ম্যাচ করে না। এদিকে আমার সার্টিফিকেট দেখে যে উনাদের নাম ঠিক করবো, সেইটা করলেও আরেক সমস্যা। আমার ছোট দুই বোনের একাডেমিক কাগজে আবার আলাদা। তখন ওদেরগুলোও ঠিক করতে হবে। ওদের স্যার ম্যামেরাও আন্দাজের উপর বসিয়ে দিয়েছেন।

 

তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন এই দায় আসলে কার!

এই সিস্টেমগুলো আসলে কবে ঠিক হবে?

পরিবারের তথ্যের চেয়ে স্কুলের স্যার, ম্যামরা আন্দাজের উপর নামের বানান, নাম, বয়স দেওয়ার এই জঘন্য প্রথা আসলে কবে বন্ধ করবে?

শিক্ষকদের এই সামান্য অসাবধানতাই অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে। যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেছি যে এই সমস্যাগুলো সমাধান করে শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার সুযোগ দিন।

লেখক: সাংগঠনিক সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৬ মার্চ ২০২৪ তারিখে দৈনিক জনকণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!