বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

দুঃসময়ের কান্ডারী ড. ইউনুস

Author

মোঃ রুহুল আমিন , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ৯ মার্চ ২০২৬ পাঠ: ৪০ বার

বাঙালি স্বপ্নবাজ জাতি। আমরা স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি। ২০২৪ এর গনঅভ্যুত্থানের পরও আমরা নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছি। কিছু ক্ষেত্রে সফল হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সফলতার মুখ দেখা যায়নি। এর কারণ দেশের আম জনতা গনঅভ্যুত্থানের সময় সকলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐকবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমেছিলো। কিন্তু অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজেদের স্বার্থের জন্য আবার বিভক্ত হয়ে পড়েছে। ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো পাগল হয়ে আছে। আওয়ামী লীগের শাসন আমলে ক্ষমতার বাহিরের থাকা দলগুলো ১৬ বছরের ক্ষুধার্ত বিড়ালগুলো এখন ক্ষুধার্ত বাঘের আকার ধারণ করেছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর তাদের স্থান গুলো এই ক্ষুধার্তদের দখলে চলে গেছে। দেশের সকল জায়গায় দূর্নীতি, অনিয়ম, অত্যাচর ও জুলুম পূর্বের ন্যায় রয়ে গেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় না গেলেও দূর্নীতি, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, অনিয়ম, অত্যাচার ও জুলুম করার জন্য যে ক্ষমতা দরকার সেটি লাইসেন্স তারা পেয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় সিন্ডিকেট গুলো ঠিক আগের মতোই আছে শুধু সিন্ডিকেটের মানুষগুলোর পরিবর্তন হয়েছে।
আমরা অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. ইউনুস কে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের দেশের ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতি, বিচার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সহ সার্বিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ ছিলো। কিন্তু বাঙালির একটা স্বভাব আছে যে নিজেরা ভাল কিছু করতে না পারলে অন্যে কেউ ভাল কিছু করবে সেটা আমাদের সহ্য হয় না। কেউ একটু উপরের উঠার চেষ্টা করলে তাকে উপরে উঠতে সাহায্য না করে কিভাবে তার উপরে উঠার পথ বাঁধা গ্রস্থ করা যায়। রাজনৈতিক দলগুলো বর্তমান কাজ হলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সফল হতে না দিয়ে কিভাবে দ্রুত তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিজেরা সেই স্থানে বসা যায়। আরেকটি বড় বাঁধা ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের ১৬ বছরে গড়ে তোলা কাঠামো। এই কাঠামোর গুরত্বপূর্ণ স্থানে হাসিনা সরকারে নিয়োগ কৃত দলীয় লোকজন রয়েছে। তারা ইউনুস সরকারকে সফল হওয়ার পথে বিভিন্ন ভাবে বাঁধার সৃষ্টি করেছে।
বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সুযোগ পেলেই ড. ইউনুসকে সমালোচনা করি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে প্রশ্নবানে জর্জরিত করি। কিন্তু বিগত  সাত মাসে দুশোরও অধিক আন্দোলন আর হঠাৎ করে সকল ক্ষেত্রে তীব্র বৈষম্য অনুভূত হওয়া জাতিকে নিয়ে তিনি যে কাজগুলো করছেন সেগুলো নিয়ে কখনো কথা বলেছি কি?  না বলিনি কারণ আমরা বাঙালি জাতি কি করেছে সেটার চেয়ে কি করতে পারেনি সেটা নিয়ে বেশি কথা বলি। গত সাত মাসে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে অর্থনীতি, মূল্য স্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, জীবন ব্যবস্থা, বিচার ব্যাবস্থা, ঋণ পরিশোধ, খাদ্যদ্রব্যে ভর্তুকি, দ্রব্য মূল্যের দাম কামানো, দূর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়নসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করেছেন। সম্প্রতি চীন সফরে ১ টি চুক্তি সহ ৮ টি সমঝোতা স্মারক সাক্ষর করেছেন। চীনের কাছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে ৫০ বছরের পরিকল্পনা চেয়েছেন। চিকিৎসা ক্ষাত সহ বিভিন্ন ক্ষাতে চীন বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। ঢাকায় বিডার বিনিয়োগ সম্মেলনে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। সম্মেলনে বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর উপস্থাপনে মুগ্ধ হয়ে দেশবাসী প্রসাংশায় ভাসিয়েছেন। এভাবে বাংলাদেশের মেধা সম্পদ যেগুলো বিদেশে রয়েছে তাদের দেশে ফেরত আনতে হবে।
বাংলাদেশের সৌভাগ্য আমরা ড. ইউনুসের মতো একজন বিশ্ব নেতাকে পেয়েছে। কিন্তু নিজেদের ব্যাক্তিগত স্বার্থের জন্য আমরা জাতিগত স্বার্থ কে নষ্ট করে ফেলছি। নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছি। বাংলাদেশের সকল দল সরকারের ক্ষমতায় গেলে ক্ষমতা বৈধ-অবৈধ যে কোন উপায়ে হোক ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করে। সংস্কার হলে সেই উপায় না থাকতে পারে। সেজন্য দ্রুত নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক দল মরিয়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচিত সরকার আসলে দেশের অবস্থা খারাপ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। কারণ ইউনুস বৈদেশিক সম্পর্ক ভাল ভাবে সামাল দিচ্ছেন। যে কোন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্বস্ব জায়গা থেকে সহযোগিতা করতে হবে। ড. ইউনুসের হাত ধরে দেশর সংকটময় সময় কাটিয়ে উঠতে হবে। বর্তমান রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা কে কাটিয়ে উঠতে হবে। সংস্কারের মাধ্যমে দেশে জনগণের ভোটের অধিকার সহ দেশে যেন আর কোন ফ্যাসিস্ট তৈরি হতে না পারে সেটির বন্দোবস্ত করতে হবে। ইউনুসই বর্তমান দুঃসময়ের কান্ডারী।
লেখক,
শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া এবং সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!