বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

শিশুশ্রম বন্ধ করা জরুরি

Author

মোছাঃ মিথিলা খাতুন , সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৫ পাঠ: ১১২ বার

শিশুশ্রম বন্ধ করা জরুরি

মোছা. মিথিলা খাতুন

বাংলাদেশ শিশু শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, ১৪ বছরের কম বয়সি শিশুদের যে কোনো ধরনের শ্রম নিষিদ্ধ এবং ১৮ বছরের কম বয়সি কিশোরদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত করা আইনত দুনীয় অপরাধ। তবে আইনের বিধান সত্ত্বেও শিশু শ্রমের ভয়াবহ চিত্র আমাদের সমাজে প্রকট। শহরের অলিগলি থেকে গ্রামের কৃষি মাঠ পর্যন্ত শিশুশ্রমের করুণ দৃশ্য দেখা যায়, যা আইন বাস্তবায়নের ব্যর্থতাকে স্পষ্ট করে। শ্রম মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশে প্রায় ৩৪ লাখ শিশুশ্রমিক রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ২৪ লাখ গ্রামাঞ্চলে এবং ১০ লাখ শহরাঞ্চলে কাজ করে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) মতে, বাংলাদেশে মোট ৩৪ লাখ শিশুশ্রমিকের মধ্যে ১৩ লাখের বেশি শিশু ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিযুক্ত। ILO ও ইউনিসেফের যৌথ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৫-১৭ বছর বয়সি শিশুশ্রমিকদের বেশির ভাগই এমন কাজে যুক্ত, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। দরিদ্রতা, শিক্ষার অভাব ও পারিবারিক অসচেতনতা এসবের প্রধান কারণ। বিশেষত, গ্রামীণ পরিবারের অভিভাবকরা সন্তানদের শিক্ষার খরচ বহনে অসমর্থ থাকায় বাধ্য হয়ে তাদের কাজে পাঠান। এতে শিশুরা

শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে তাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেয়।

শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। প্রথমত, শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে হবে। মানসম্পন্ন ও বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একত্রে কাজ করতে হবে। গ্রামীণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মান উন্নয়নে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, পারিবারিক সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে, যেন অভিভাবকরা শিশুশ্রমের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে জানেন। তৃতীয়ত, দরিদ্র পরিবারের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা এবং আর্থিক সহায়তা দিতে হবে, যাতে শিশুরা কাজে না গিয়ে পড়াশোনার সুযোগ পায়। শিশু শ্রম আইন যথাযথভাবে প্রয়োগ এবং আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক মাধ্যম ও গণমাধ্যমকে এ ব্যাপারে আরো সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করতে সকলকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ, তাই শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যতের জন্য সচেতনতা সৃষ্টি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে এখনই।

শিক্ষার্থী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৫ মার্চ ২০২৫ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!