ভিক্ষাবৃত্তি অসহায়ত্ব, নাকি পেশা?

ভিক্ষাবৃত্তি অসহায়ত্ব, নাকি পেশা?
মোছা. মিথিলা খাতুন
ভিক্ষাবৃত্তি বহুল আলোচিত একটি সামাজিক ব্যাধি। এই সমস্যা আগে শহরে দেখা গেলেও বর্তমানে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রামের মানুষের সরলতাকে পুঁজি করে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের রমরমা ব্যবসা। গ্রামের মানুষ এখন তাদের মেইন টার্গেটে পরিণত হয়েছ। তারা সপ্তাহের বিভিন্ন দিনে গাড়ি ভাড়া করে গ্রুপে গ্রামে গ্রামে প্রবেশ করে। নিজেদের নানা অসহায়ত্ব যেমন: মেয়ের বিয়ে, কিডনির সমস্যা, পেটে পাথর, চোখের অপারেশনসহ বিভিন্ন জটিল রোগের কথা বলে সাহায্য চায়। গ্রামের মানুষ তাদের কথা শুনে চাল, ধান, টাকা প্রভৃতি দিয়ে সাহায্য করে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা কোনো জটিল রোগে আক্রান্ত নয়। তারা মূলত তাদের অসহায়ত্ব দেখিয়ে গ্রামের সহজ সরল মানুষকে তাদের ব্যবসায়ের হাতিয়ারে পরিণত করেছে। বিকালের দিকে লক্ষ করা যায়, তারা তাদের জমা করা চাল, ধান দোকানে বিক্রি করে মোটা অঙ্কের টাকা গুনে নিচ্ছে। এদের অনেকের আর্থিক অবস্থা গ্রামের সাধারণ মানুষ থেকে ভালো, তারপরও তারা ভিক্ষাবৃত্তি করে যাচ্ছে। অনেকে আবার ছেলেমেয়েকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করার জন্য একে পেশা হিসাবেই বেছে নিয়েছে। এদের সাহায্য করতে গিয়ে গ্রামের মানুষ নিজেরাই নানা সমস্যার মধ্যে পড়ছে।
এদের জন্য সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামের নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত মানুষ। তারা সাহায্য করতে গিয়ে নিজেরাই
আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। অনেকে আবার লজ্জায় সাহায্য করতে পারবে না, কথাটি বলতে পারে না। এরই ফায়দা উঠিয়ে ব্যবসায়ী ফাঁদ এঁটেছে তারা। তারা ভিক্ষা করতে গিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ে; যেমন মানুষকে সম্মোহন বা হেপনোটাইটিস করে টাকা-পয়সা লুট করা। তাদের এইসব কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন অপরাধ প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রকৃত অসহায়রা। এছাড়াও কমে যাচ্ছে মানুষের সাহায্য করারও মানসিকতা। তাই প্রশাসন বা সরকারের উচিত এদের একটা ব্যবস্থা করা এবং স্থানীয় প্রশাসকের উচিত তাদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
কোনো ধর্মেও ভিক্ষাবৃত্তিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। এবং এটি একটা নৈতিকতাবিবর্জিত কাজ। দেশের সার্বিক উন্নয়কেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে নিয়োজিত জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থান শীর্ষক কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয় ২০১০ সালে এবং এরপরে ২০১৭-২০১৮ সালে ৫৮টি জেলায় একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। মোবাইল কোট ইত্যাদির মাধ্যমে ভিক্ষাবৃত্তি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ফলে ভিক্ষুকরা তাদের ব্যবসার জন্য শহর ছেড়ে পাড়ি জমাচ্ছে গ্রামে। কারণ শহরে পুনর্বাসন প্রক্রিয়া থাকলেও গ্রাম অঞ্চলে নেই। তাই হয়তো গ্রামে এটা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রশাসনের উচিত গ্রাম অঞ্চলে এমন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা ও এ ব্যাপারে কঠোর উদ্যোগ নেওয়া।
শিক্ষার্থী, সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

