বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

প্যারাসিটামল নিয়ে চাই সতর্কতা।

Author

মোছা সোমনা আক্তার , মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ

প্রকাশ: ৫ জুলাই ২০২৬ পাঠ: ৩১ বার

প্যারাসিটামল নিয়ে চাই সতর্কতা।
সোমনা আক্তার
সামান্য মাথাব্যথা বা একটু জ্বর-জ্বর ভাব? কোনো চিন্তা না করেই আমরা পকেট থেকে বের করে চিবিয়ে নিচ্ছি একটি প্যারাসিটামল। মুড়িমুড়কির মতো ওষুধ কেনার এই সহজলভ্যতা আমাদের সাময়িক আরাম দিলেও, অজান্তেই ঠেলে দিচ্ছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকে।
প্যারাসিটামল সেবনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ চার গ্রাম বা আটটি ৫০০ মিলিগ্রামের ট্যাবলেটের বেশি সেবন করা কোনোভাবেই উচিত নয়। বিশেষ করে যারা নিয়মিত অ্যালকোহল গ্রহণ করেন বা যাদের লিভারে আগে থেকেই সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য প্যারাসিটামল অত্যন্ত সংবেদনশীল। অ্যালকোহল আসক্তদের লিভার এমনিতেই দুর্বল থাকে, ফলে সামান্য অসতর্কতায় প্যারাসিটামল সেবনে তাদের লিভার দ্রুত বিকল হতে পারে। প্রতিবার ওষুধ সেবনের মাঝে অন্তত চার থেকে ছয় ঘণ্টার ব্যবধান রাখা বাঞ্ছনীয়। এই নিয়মের ব্যতিক্রম হলে এবং মাত্রাতিরিক্ত প্যারাসিটামল গ্রহণ করলে লিভার ও কিডনি স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অনেকেই সর্দি, কাশি বা ব্যথার জন্য একসঙ্গে একাধিক কোম্পানির ওষুধ খান। অথচ এসব ওষুধের অনেকগুলোতেই প্যারাসিটামল মিশ্রিত থাকে। সচেতনভাবে উপাদান না দেখে একাধিক ওষুধ একসঙ্গে খেলে অজান্তেই শরীরে প্যারাসিটামলের ওভারডোজ হয়ে যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একটানা তিন দিনের বেশি এই ওষুধ সেবন করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
বাংলাদেশে ওষুধ (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ ১৯৮২ অনুযায়ী, প্রেসক্রিপশন ছাড়া নির্দিষ্ট ওষুধ বিক্রি নিয়ন্ত্রিত হওয়ার কথা, কিন্তু বাস্তবে এই আইন কার্যত উপেক্ষিত। সাধারণ মানুষের এই অনিয়ন্ত্রিত ওষুধ কেনার প্রবণতা বন্ধে এবং ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি রোধে কঠোর আইন প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে এ বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।
লেখক  :-
সোমনা আক্তার
শিক্ষার্থী, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ।
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ।
https://www.kalerkantho.com/epaper/2026-07-02/6
লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!