বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

বন্ধুত্ব হোক প্রকৃতির সঙ্গে

Author

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ (কুষ্টিয়া-৭০০৩)

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২১ পাঠ: ৪০ বার

এস এ এইচ ওয়ালিউল্লাহ
মানুষ যখন থেকে আধুনিক সভ্যতার সন্ধান পেয়েছে তখন থেকেই প্রকৃতি ধ্বংসের খেলায় মেতে উঠেছে।  মানুষের মুনাফামুখী উন্নয়ন নামক আক্রোশের বিষবাষ্পে প্রকৃতি বিষাক্ত হয়ে উঠেছে।  যে প্রকৃতি প্রতিনিয়ত মানুষকে বাঁচতে শেখায়, শেখায় চলতে-ফিরতে, সেই প্রকৃতির সাথেই মানুষের বৈরিতা আজ স্পষ্ট।  প্রকৃতিকে ধ্বংস করার নানারকম কলা-কৌশলে প্রতিনিয়ত নিজেদের ব্যস্ত রেখেছে মানবজাতি।  জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যেখানে মানুষ প্রকৃতি ছাড়া এক মুহূর্ত চলতে পারে না, প্রকৃতি ছাড়া যখন প্রাণের অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না।  নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সেই প্রকৃতির সাথেই মানুষ করছে নিষ্ঠুর আচরণ।  ফলস্বরূপ পৃথিবী হারিয়েছে তার স্বভাব সুলভ আচরণ।  ঋতু বৈচিত্রে  এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন।  বাংলাদেশ ছিল ষড়ঋতুর দেশ।  মানবসৃষ্ট কারণে ঋতুবৈচিত্র্যের রূপের বিবর্তন এখন আর আগের মতো বর্ণিল নয়।  এইজন্যে শরৎ ও হেমন্তের অবস্থা অনেকটা সংকটাপন্ন।  আবার শীত ও গরমের মাঝে কখন যে বসন্ত আসে তাও বোঝা ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে।  এদেশে এখন শীতকালে শীত নেই, বর্ষাকালে নেই বৃষ্টি।  অথচ অকাল বৃষ্টির কারণে কখনও কখনও বন্যা পর্যন্ত সৃষ্টি হচ্ছে।  এই অনাবৃষ্টি কিংবা অকাল বৃষ্টির প্রভাব পড়ছে আমাদের কৃষি ক্ষেত্রে।  পড়ছে তীব্র গরম। উষ্ণায়নের ফলে মেরু অঞ্চলের বরফ গলে সমুদ্রের পানির স্তর বাড়িয়ে দিচ্ছে ক্রমাগত।  বারবার আঘাত হানছে সিডর, আম্ফান এর মত প্রলয়ঙ্করী সামুদ্রিক ঝড়।  ভূমিকম্প বৃদ্ধি পাওয়া, সম্প্রতি একইদিনে মাত্র কয়েকঘন্টার ব্যবধানে সিলেটে ৫ বার ভূমিকম্প অনুভূত হওয়া এসবই প্রকৃতির সাথে মানুষের বৈরী আচরণের ফসল।  এমনকি করোনা মহামারীকেও গবেষকরা মানুষের হাতে প্রকৃতি ধ্বংসের ফল বলেই উল্লেখ করছেন।  বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী প্রকৃতির এক ধরনের প্রতিশোধ বলেই মনে করেন তারা।  প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে জেনেও দিনের পর দিন এই বাস্তবতাকে এড়িয়ে যাওয়ার ফল এখন ভোগ করতে হচ্ছে বিশ্ববাসীকে।
মাত্র দুই থেকে তিন যুগ পেছনে তাকালেই দেখা যায় আমাদের প্রকৃতি কতখানি পরিপাটি ছিল।  সবুজে ঠাসা ছিল আমাদের চারপাশ।  মাঠে ফলত সোনার ফসল, গাছে গাছে বাহারি ফল আর ফুল। নদীর স্বচ্ছ পানি, নির্মল বাতাস।  সন্ধ্যার অন্ধকার মুখরিত হয়ে উঠতো নীড়ে ফেরা পাখির কলতানে। রাত্রি শেষে ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই আবার পাখির কিচিরমিচির শব্দ।  বিলে শোভা ছড়াতো রংবেরঙের শাপলা, পদ্ম সহ নানারকম জলজ উদ্ভিদ।  শিয়াল, বনবিড়াল, সাপ, ব্যাঙ, নেউল, দোয়েল, কোকিল, জোনাকিপোকা, বুনোলতা-ফুল সব  একসাথে জড়াজড়ি করে থাকতো বাড়ির পাশের ঝোপটাতে।  সন্ধ্যে নামলেই ঝিঝি পোকার ডাক আর রাতের আঁধারে তারার মত মিটমিট করে জ্বলতে থাকা জোনাকি পোকার সবুজ আলো আমাদের রাতকে করে তুলতো মোহনীয়। সব মিলিয়ে প্রকৃতিতে ছিলো অন্যরকম এক সজীবতা। চারপাশ ছিলো প্রাণপ্রাচুর্যে ভরা।
অথচ হাতে গোনা মাত্র কয়েকটি যুগের ব্যবধানে আমাদের প্রকৃতি হয়ে গেছে রুক্ষ। শহরাঞ্চল তো দূরের কথা, গ্রামাঞ্চলেই এখন সবুজের সমারোহ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। সন্ধ্যার পরে ঝোপঝাড়ে এখন আর তেমন একটা জোনাকি দেখা যায় না, শোনা যায়না ঝিঝিপোকার ডাক। কলকারখানার বিষাক্ত বর্জ্য, নদী ভরাট, উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের কারণে নদীগুলোর অবস্থা শোচনীয়। অপরিকল্পিত নগরায়ন এবং অবৈধ ইটভাটার দৌরাত্ম্যে ফসলি জমি কমেছে কয়েকগুণ।  আবার এসব ভাটার ইট তৈরির জন্য অবশিষ্ট জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে কৃষকদের নামমাত্র কিছু টাকা দিয়ে। ফলে ফসল বিপর্যয়ের দিকে ঝুকছে আমাদের কৃষি।  কেননা, কৃষিবিদ দের মতে- শতকরা ৫ ভাগ বিভিন্ন জৈব উপাদান সমৃদ্ধ মাটি ফসল উৎপাদনের জন্য অপরিহার্য।  আর এসব জৈব উপাদানের উপস্থিতি সাধারণত জমির মাটির উপরিভাগ থেকে  ৮ ইঞ্চি গভীরতা পর্যন্ত বিস্তৃত থাকে।  কিন্তু ইট ভাটার মালিকেরা জমির উপরের এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত মাটি কেটে নিচ্ছেন।  এতে করে ফসল উৎপাদনের অত্যাবশকীয় উপাদান সমৃদ্ধ মাটি তথা ‘টপ সয়েল’ শূন্য হয়ে পড়ছে ফসলি জমি।  পাশাপাশি প্রকৃতির লাঙ্গল কেঁচো সহ মাটিতে অবস্থানকারী উপকারী বিভিন্ন পোকামাকড় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।  ফসল উৎপাদনে বিপর্যয় এড়াতে জমিতে প্রয়োগ করা হচ্ছে বিভিন্ন রাসায়নিক সার।  পর্যায়ক্রমে রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে আমাদের ফসলি জমির স্তরগুলো পরিণত হয়েছে এক একটি রাসায়নিক ভান্ডারে।  যা নিঃসন্দেহে পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে।
বিগত কয়েক বছরে বায়ুদূষণে প্রতিদিনই রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ।  সম্প্রতি বায়ুদূষণে শীর্ষ দেশের তালিকায় নামও লিখিয়েছে।  পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণায় বলা হয়েছে, এমন ভয়াবহ দূষণের জন্য ৫৮ শতাংশ দায়ী ইট ভাটার ধোঁয়া।  বাকি ৪২ শতাংশ দূষণ নির্মাণ ও মেরামত কাজ থেকে হচ্ছে।  শুধু ইট ভাটা থেকেই বছরে প্রায় ১৫.৬৭ মিলিয়ন টন কার্বনডাইঅক্সাইড বায়ুমন্ডলে যোগ হচ্ছে।  বিপুল পরিমাণ এ কার্বনডাইঅক্সাইডের পাশাপাশি কার্বন মনো অক্সাইড, সালফার অক্সাইড সহ নানান বিষাক্ত উপাদানও অস্বাভাবিক হারে যুক্ত হচ্ছে বায়ুমন্ডলে।  লাগামহীনভাবে বাতাসে এসব ক্ষতিকর উপাদান যুক্ত হওয়ার ফলে বৃদ্ধি পাচ্ছে উষ্ণতা।  যা সরাসরি জলবায়ু পরিবর্তনে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করছে।  কোন কোন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের বায়ু দূষণের ভয়াবহতা নিরূপণের জন্য প্রাকৃতিক একটি স্কেল ব্যবহার করেছেন।  তারা বলছেন, স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ফুলের সৌরভ বাতাসের মাধ্যমে ১০-১২ শত মিটার পর্যন্ত ছড়ানোর কথা।  কিন্তু দূষণ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ফুলের সৌরভ বাতাসের মাধ্যমে এখন মাত্র ২-৩ শত মিটার পর্যন্ত ছড়াচ্ছে। 
সারাদেশে নির্বিচারে চলছে বনভূমি নিধন।  আমাদের ভবিষ্যৎ যে অবিচ্ছিন্নভাবে বনভূমির সাথে সম্পৃক্ত সেকথা আমরা ভুলেই গেছি।  টেকসই শতাব্দী নিশ্চিতকরণে আমরা বনভূমি থেকে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করি সেটাও ভুলে গেছি।  নির্বিচারে বনভূমি নিধনের ফলে বর্তমানে দেশের বনভূমি ১০ শতাংশেরও নীচে নেমে এসেছে।  এসবের সাথে দূষণের এই নগ্ন রাজ্যে মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থী আগমন যেন অনেকটা আগুনে ঘি ঢালার মত অবস্থা সৃষ্টি করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির তথ্য মতে- নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত ৩৪টি ক্যাম্পে ১১লাখ ১৮ হাজার ৫৭৬ জন রোহিঙ্গা উখিয়া-টেকনাফের বনভূমিতে বসতি স্থাপন করেছে।  ৬ হাজার ১৬৪ দশমিক ০২ একর বনভূমি দখল করে গড়ে উঠেছে এসব ক্যাম্প।  মূলত এসব কারণেই জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর তালিকায় উঠে এসেছে আমাদের দেশের নাম। অথচ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হচ্ছে এসব প্রাকৃতিক ‘কার্বন স্টোরেজ সিস্টেম’ তথা বনভূমি।  এভাবে বনভূমি গুলো উজাড় হতে থাকলে জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে না।  যার স্পষ্ট প্রভাব পড়বে বাস্তুসংস্থানের উপর।  কেননা বাস্তুসংস্থানে বিভিন্ন ধরনের উদ্ভিদ এবং প্রাণীর সমন্বয় থাকে।  বাস্তুসংস্থানের প্রতিটি জীব প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে অন্য জীবকে উপকার করে।  এভাবে জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করার অর্থ হচ্ছে খাদ্য শৃংখল কে ভেঙ্গে দেওয়া।  যা প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ উভয়ভাবেই মানবজাতির জন্য ক্ষতির কারণ। জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে,  প্রকৃতি ধ্বংস করে ভালো থাকা যায় না।  পৃথিবীতে মানুষের প্রয়োজনীয়তা যতখানি, ক্ষুদ্র একটি পতঙ্গ কিংবা তুচ্ছ সাগর লতার প্রয়োজনীয়তা তার চেয়ে কোন অংশে কম নয়। কিটনাশকের ব্যবহার, বনভূমি উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন সহ নানাবিধ কারণে পতঙ্গের সংখ্যা কমে যাচ্ছে।  কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে পতঙ্গ কমে যাওয়ার কারণে প্রাকৃতিক ভাবে মতো মধু উৎপাদনও কমে যাচ্ছে।  এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী ১৯৯৪ সালে দেশে মধু উৎপাদন হয়েছিলো ৪৩৭.৪৭৮ টন। মাত্র ৪ বছরের ব্যবধানে ১৯৯৮ সালে তার উৎপাদন ছিল ৩৯৩.৫০ টন! ঠিক একইভাবে সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ির উপর এঁকেবেঁকে চলা গাড় সবুজ পাতা আর গোলাপিবর্ণ ফুল ওয়ালা তুচ্ছ সাগর লতাটার অবস্থানও  বাস্তুসংস্থানে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।  পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বলেন, এই লতার গোলাপি ফুল মৌমাছি, পিঁপড়া, প্রজাপতি ইত্যাদি পতঙ্গকে আকর্ষণ করে।  যেখান থেকে এরা একে অন্যের খাদ্যের সংকুলান করতে পারে।  আর এর গাড় সবুজ পাতা মাটিকে সূর্যের কিরণ থেকে এমনভাবে রক্ষা করে, যাতে সূর্যের তাপ মাটি থেকে অতিরিক্ত পানি বাষ্পীভূত করতে না পারে। এভাবেই মাটির নিচের স্তরের উপকারী ব্যাকটেরিয়াসহ প্রাণিকুলের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে দেয় সাগরলতা।  এছাড়াও সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া জেলেদের শরীরে জেলিফিশের আঘাতে হওয়া ক্ষত সারানোর জন্য সাগরলতার পাতার রস ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে।  এভাবেই প্রকৃতিতে গাছপালা, পশুপাখি, পতঙ্গ, প্রাণহীন পরিবেশ ও মানুষের ভেতরে নানামুখী সম্পর্ক বিদ্যমান।  এরা প্রত্যেকেই একে অপরের উপর নির্ভরশীল।  এই শৃঙখলের কোন একটি অংশের অনুপস্থিতি মানবজাতিকে চরম বিপদে ফেলতে পারে।
এরপরও কি আমাদের ভাবনা ফিরবে না? জাগ্রত হবে না আমাদের মূল্যবোধের? অকৃতজ্ঞের মত মানুষ প্রকৃতির বিনাশ করেই যাবে? দেশের নদী, মাটি, পাহাড়, বনভূমি, পশুপাখি, পতঙ্গ সবকিছুতেই মানুষের মুনাফামুখী উন্নয়নের গভীর ক্ষত লক্ষ্যনীয়। নিজেদের বাঁচার তাগিদেই এই ক্ষত আমাদের সারাতে হবে।  পৃথিবীতে বসবাসরত অগণিত প্রাণির সাথে মানুষের সহাবস্থান নিশ্চিত করাটা জরুরী।  প্রকৃতি কিভাবে আমাদের লালন করছে তা উপলব্ধি করতে হবে আমাদের।  প্রকৃতি রক্ষা এবং আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে বিশ্বজুড়ে ২৮ জুলাই আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস পালিত হয়।  দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয়ের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে প্রকৃতির ন্যায্যতা পূরণে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং রাষ্ট্র সকলকেই যার‍ যার অবস্থান থেকে আমাদের ভাবনার পরিধি উন্মুক্ত করতে হবে।  এবং ভবিষ্যৎ পৃথিবীতে আমাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ভালোবাসতে হবে প্রকৃতিকে।
লেখক: শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। 
লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৯ জুলাই ২০২১ তারিখে দৈনিক মানবকন্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।