শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

“সংকোচ নয়, সচেতনতা: ক্যাম্পাসে নিরাপদ ওয়াশরুম চাই”।

Author

সেঁজুতি মুমু , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৬ পাঠ: ৩০ বার

“সংকোচ নয়, সচেতনতা: ক্যাম্পাসে নিরাপদ ওয়াশরুম চাই”

 

কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আছে, যেগুলো নিয়ে কেউ কথা বলতে চেয়েও পারে না। এর পিছনে কাজ করে লজ্জা, কিভাবে বলব? কি বলব? লোকে কি ভাববে? ইত্যাদি। এজন্য অনেক বিষয় অগোচরেই থেকে যায়। এই সমস্যাগুলোর মধ্যে, সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে টয়লেটের পরিচ্ছন্নতার অভাব নিয়ে কথা বলা এবং সে বিষয়ে অভিযোগ জানানো। পুরুষরাই এ বিষয়ে কথা বলতে চায় না আর নারীরা তো লোকলজ্জায় এই বিষয়টা একদম এড়িয়ে চলেন। অথচ সবচেয়ে বেশি ভুগতে হয় নারীদের। পুরুষ শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই ব্যাপারটা অতোটা গুরুত্বপূর্ণ না হলেও, নারীদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলার আগে আমি বলছি আমার বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা। উত্তরের বাতিঘর নামে খ্যাত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট, ক্লাসরুম সংকটের পাশাপাশি অন্যতম বড় সমস্যা হলো শিক্ষার্থীদের এমনকি শিক্ষকদের ব্যবহার করা ওয়াশরুমগুলোর জঘন্য অবস্থা। ছেলে মেয়ে উভয়ের জন্য আলাদা ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করা আছে। কিন্তু ওই পর্যন্তই। এগুলোর পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে কারো কোনো মনোযোগ নেই। এ বিষয়ে নারী শিক্ষার্থীরা কথা বলতেও সংকোচবোধ করেন। নারীদের জন্য ব্যবহৃত টয়লেট গুলোর অবস্থা খুবই শোচনীয়। এগুলো আদৌ পরিষ্কার করা হয় কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন থেকে যায়৷ অথচ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা সব ধর্মের অঙ্গ। শিক্ষার্থীরা বাধ্য হন এই ওয়াশরুম গুলো ব্যবহার করতে। কারণ সারাদিনে চার থেকে পাঁচ ঘন্টা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কাটাতে হয়। এসময় ওয়াশরুম ব্যবহার করা অপরিহার্য। অনেকে আবার এই নোংরা ওয়াশরুমগুলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে, পানি পান করেন না। এতে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা হয়। বিশেষ করে যেহেতু মেয়েদের ইউরিনারি ও প্রজনন অঙ্গ তুলনামূলক বেশি সংবেদনশীল, তাই ঝুঁকি একটু বেশি থাকে।

সম্ভাব্য সমস্যাগুলো:

১. ইউরিন ইনফেকশন (UTI)

অপরিষ্কার টয়লেটের জীবাণু মূত্রনালিতে ঢুকে সংক্রমণ করতে পারে।

লক্ষণ: প্রস্রাবে জ্বালা, বারবার প্রস্রাবের বেগ, নিচে ব্যথা।

২. যোনি সংক্রমণ (Vaginal infection)

ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাস থেকে সংক্রমণ হতে পারে।

লক্ষণ: চুলকানি, অস্বাভাবিক স্রাব, দুর্গন্ধ।

৩. ফাঙ্গাল ইনফেকশন (Yeast infection)

ভেজা বা নোংরা পরিবেশে এই সমস্যা বেশি হয়।

লক্ষণ: চুলকানি, সাদা দইয়ের মতো স্রাব।

৪. ত্বকের সমস্যা

টয়লেট সিট বা আশপাশের নোংরা জায়গা থেকে র‍্যাশ, চুলকানি বা অ্যালার্জি হতে পারে।

৫. প্যারাসাইট বা কৃমি সংক্রমণ (কম হলেও সম্ভব)

খুব নোংরা পরিবেশে এই ঝুঁকিও থাকতে পারে।

 

আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক গর্ভবতী শিক্ষার্থীও ক্লাস করেন। তাদের ঘন ঘন ওয়াশরুম ব্যবহার করতে হয়। তারা বাধ্য হন নোংরা ওয়াশরুমগুলো ব্যবহার করতে। ফলে তাদের নানারকম শারীরিক ঝুঁকি দেখা দেয়। আবার কোনো ওয়াশরুমেই স্যানিটারি ন্যাপকিন ফেলার জন্য ডাস্টবিন নেই। এতে নারীদের আরও ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এই সমস্যাগুলো নিয়ে নারীরা কথা বলতে সংকোচবোধ করেন। তাই এত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অগোচরেই থেকে যায়। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী ও পুরুষ উভয়ের জন্য তৈরি ওয়াশরুমগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করতে হবে এবং নারীদের ওয়াশরুমগুলোতে স্যানিটারি ন্যাপকিন ফেলার জন্য ডাস্টবিনের ব্যবস্থা ও তা পরিষ্কার রাখার ব্যবস্থা করা অপরিহার্য। শুধু বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়, বাংলাদেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ওয়াশরুমগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করতে হবে এবং এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। সংকোচবোধ করলে চলবে না। এ বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলতে লজ্জার কিছু নেই। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, এই সমস্যাগুলো নিয়ে খোলামেলাভাবে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। আমরাই যদি সংকোচবোধ করি তাহলে অন্যরা তো কথাই বলতে পারবে না। আসুন সবাই সচেতন হই এবং নিরাপদ ওয়াশরুম বা টয়লেট নিয়ে সচেতনতা বাড়াই এবং নিজেদের দাবিগুলো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তুলে ধরি।

 

 

 

লেখক: সাবেক সহ-সভাপতি, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!