মানবতন্ত্র
রক্ত! রক্ত! রক্ত!
যেদিকেই দুচোখ যায়, দেখি আমার সোনার বাংলা ক্ষতবিক্ষত!
সন্তানের লাশের ভাড়ে, বাংলা মায়ের কাধ নুয়ে গেছে!
অন্যায়, বিশৃঙ্খলা দেখতে দেখতে আমার বাংলা মায়ের মুখ অন্ধকার হয়ে গেছে।
বাংলার প্রকৃতির মন আজ দু:খে ভারাক্রান্ত।
তাই তো আকাশে ঘন কালো মেঘ, তীব্র বর্ষণ!
গ্রীষ্মকালে বর্ষার মতো অশ্রু ঝরিয়ে, বাংলার প্রকৃতি তার বেদনা প্রকাশ করছে।
কি অসহনীয় সংবাদ!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, সংবাদপত্র কোনটা দেখতে পারছি না, এত অন্যায়ের সংবাদের ভিড়ে আমার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে, মস্তিষ্ক কাজ করছে না।
প্রতিদিন কত নারীর হচ্ছে ধর্ষণ।
হিসাব নেই! কেন করছেন না নরপিশাচদের মস্তিষ্ক কর্ষণ?
স্বাস্থ্য নিয়ে অবহেলায়, রোগের টিকার অভাবে মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়ছে হাজারো শিশু।
মাতা পিতার ক্রোন্দনের শব্দে হাহাকার করছে চারদিক।
তবু একদল মানুষ স্বার্থের খেলায় এত ব্যস্ত, তারা দোষারোপ করছে একে অপরকে!
অথচ সময় এখন একত্রিত হওয়ার, সময় এখন একত্রে লড়াইয়ের।
ছেলেকে বাঁচাতে, মব সন্ত্রাসীদের নির্যাতনে নিহত হয়েছেন মমতাময়ী মা।
ভাবতে পারেন বেঁচে যাওয়া এই সন্তান, বড় হয়ে সন্ত্রাসী হতেও দ্বিধাবোধ করবে না!
প্রতিশোধের আগুন তার শিরায় উপশিরায় বইবে।
মায়ের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিশোধের আগুনে দগ্ধ হয়ে, সে না শেষে সন্ত্রাসী হয়ে ওঠে!
শৈশবে শিখেছি নৈতিক পাঠ, শিখেছি কারো মৃত্যুতে কখনো হাসতে নেই৷ মৃত্যু নিয়ে উপহাস করলে স্বয়ং স্রষ্টা রুষ্ট হন।
আর আজ দেখি কি অধ:পতন।
মানুষের মৃত্যুতে হাসির বন্যায় ভাসছে, মানুষ রূপী নরপিশাচের দল!
কথায় আছে,
“রাজায় রাজায় যুদ্ধ হয়, উলুখাগড়ার প্রাণ যায়।”
আমি সেই উলুখাগড়ার দলের একজন।
আমি যুদ্ধ চাই না, আমি ক্ষমতা চাই না, আমি শুধুই শান্তি চাই।
থামাও তোমাদের ক্ষমতার লোভ, আমাদের শান্তিতে বাঁচতে দাও!
আমি জানি না গণতন্ত্র।
আমি চিনি না সমাজতন্ত্র।
আমি জানি ও চিনি শুধুই মানবতন্ত্র!
