অনিশ্চয়তা (দ্বিতীয় ভাগ)
১
স্নিধি পড়াশুনার জন্য মালয়েশিয়া যায়। বিদেশ ভালো না লাগলেও মা আর ভাইয়ের পীড়াপীড়িতে তাকে যেতে হয়। ওর বাবা অবশ্য ওকে জোর করেন নি। কিন্তু তিনি তাকে ঠাট্টা করে বলেছিলেন, “হয়তো ওখানে কোনো মনের মানুষ পেয়ে যেতে পার। সুবর্ণ সুযোগ বুঝলেন ম্যাম। হা হা হা।” স্নিধি হাসলো। শাফিক সাহেব এখনো আফসোস করেন তার স্নিধিকে বলা এই কথার জন্য। “আহ! মেয়েটাকে যদি না যেতে দিতাম….। তাহলে হয়তো ওর অননের সাথে কখনোই দেখা হতো না। কতোই না মিষ্টি ছিল মেয়েটার হাঁসি! এই একজনের সাথে স্নিধির জীবনটাই অন্ধকার হয়ে গেল।”
২
ভিন্ন দেশ, ভিন্ন পরিবেশ। স্নিধির জন্য এটা ভিন্ন জগৎ! স্নিধি ফিলোসফি নিয়ে পড়তে মালয়েশিয়া যায়। ইউপিএম (ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়া) এর সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে যায় স্নিধি। যাক ভাইয়ার পছন্দ এই প্রথম ওর পছন্দ হলো।সেদিন ফ্রেশার ওয়েলকামিং প্রোগ্রাম ছিল। ভালোই কাটলো স্নিধির সারাদিন। প্রোগ্রাম শেষে সে একটা ক্যাফেতে গেল। সেখানে সে দেখলো একটা ছেলে বাংলা গান গাইছে। স্নিধি অবাক হয়ে গেল তাকে দেখে। সে পাশে থাকা একজনকে জিজ্ঞেস করল,
“Do you know him?”
“Ah, yeah. He is Anan. He is a Bangladeshi. He is regular here. We love him singing Bangla song.”
বাহ! বিদেশের মাটিতে বাংলা গান! স্নিধির খুবই ভালো লাগল। পুরো ক্যাফে নিরবে অননের গান শুনছে। অনন একটা গান শেষে আরেকটা গান ধরে। অবাক করার বিষয় এবার অনন স্নিধির পছন্দের গান ধরেছে। স্নিধি এবার খুব ফিল নিয়ে গান শুনছে। হঠাৎ স্নিধির মনে হলো সে যেন অন্য জগতে চলে গেছে। সেখানে শুধু ও আর অনন। কি অদ্ভুত!
৩
এরপর প্রতিদিনই স্নিধি ওই ক্যাফেতে যায় মাইন্ড ফ্রেশ করতে। কিছুদিন যেতেই স্নিধি অননের গান শুনতে শুনতে অননের গানের ভক্ত হয়ে যায়। স্নিধি এতো বেশি ওই ক্যাফেতে যাওয়া শুরু করে যে অনেক ছেলেরই নজরে পড়ে যায় সে। কিন্তু কাউকে সেই পাত্তা দেয় না। কিন্তু তার ওদের সাথে ঢং করতে ভালোই লাগতো। একদিন ক্যাফের এক পার্ট টাইমার স্নিধিকে দেখিয়ে অননকে বলে,
“I have heard that she is a Bangladeshi too. Hey dude, isn’t she beautiful?”
অনন কফি খেতে খেতে স্নিধির দিকে তাকায়। স্নিধি কফি খেতে খেতে বাহিরের দিকে তাকিয়ে আছে। এই প্রথম অনন স্নিধিকে এভাবে খেয়াল করল। আবার ফিরে তাকিয়ে কফি খেতে লাগল। অননের কাছ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না পেয়ে আলব্রেখট বলল,
“How long you’re gonna stay single man? If you want I can set you up with her. You would be a great match. What say?”
“Nah, bro. She is beautiful I agree but I’m not single you should know.”
“Are you dating? Whom?”
“Celesea”
অনন ওর গিটার এর দিকে দেখিয়ে দিল। আলব্রেখট অনেকটা হতাশা নিয়ে অননের দিকে তাকালো। অননের মুখে এলাচি হাসি দেখে সেও হাসলো।
এভাবে প্রায় ২ মাস হয়ে গেল। স্নিধি এখন এই ক্যাফেরই একজন পার্ট টাইমার। নিজের অজান্তেই স্নিধির প্রতি অননের একটা ভালো লাগা কাজ করে। কিন্তু কেউই একে অপরের সাথে কথা বলেনি। অথচ দু’জনেরই দু’জনের ব্যাপারে অনেক কিছু জানা হয়ে গেছে। যেন কোনো এক ‘অনিশ্চয়তা’ চৌম্বকের বিপরীত মেরুর মতো তাদের একে অন্যেকে বিকর্ষিত করছে।

