ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় কুরআনের নির্দেশ
ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানবজীবনের প্রয়োজনীয় সকল দিক ও বিভাগের নির্দেশনা ও নীতিমালা ইসলামে সুস্পষ্ট। প্রতিটি মানুষের ‘ব্যক্তিগত’ বলে একটা বিষয় রয়েছে এবং ইসলাম এটিকে গুরুত্বের সাথেই বিবেচনা করে। ইসলাম যেমনি ব্যক্তির সংশোধন চায়, তেমনি সীমার মধ্যে থেকে তার ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, সুরক্ষা ও গোপনীয়তা রক্ষার প্রতিও জোর গুরুত্বারোপ করে। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেন, “হে ঈমানদারগণ, তোমরা নিজেদের ঘর ব্যতীত অন্য কারও ঘরে ততক্ষণ পর্যন্ত প্রবেশ করবে না যতক্ষণ না অনুমতি গ্রহণ করবে এবং তার অধিবাসীদেরকে সালাম দিবে।” (সূরা আন নূর, আয়াত: ২৭)
আয়াতের আলোকে বুঝা গেলো, অনুমতি গ্রহণ করা ব্যতীত কারও গৃহ বা কক্ষে হুট করে প্রবেশ করা এটি কোনো মুমিনের গুণ হতে পারে না। এই আয়াতের আলোকে আমরা আরও অনুধাবন করতে পারি যে, শুধু কারও ব্যক্তিগত কক্ষ বা গৃহ নয়; ব্যক্তিগত ডেস্ক, ডায়েরি, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ ইত্যাদিতেও ব্যবহারকারীর অনুমতি ব্যতীত প্রবেশ করা যাবে না।
কুরআনুল কারীমে আরও ইরশাদ হয়েছে, “হে মুমিনগণ, তোমরা অধিক অনুমান করা থেকে বিরত থাক। নিশ্চয় কিছু অনুমান তো পাপ। আর তোমরা গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না।” (সূরা হুজরাত, আয়াত: ১২)
সুতরাং কাউকে নিয়ে অতিরিক্ত সন্দেহ করা বা মন্দ ধারণা করাকেও ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলাম কারও পিছু লাগা বা তার গোপন বিষয় অনুসন্ধান করাকে নাকচ করেছে। বরং ইসলাম আমাদেরকে ভ্রাতৃত্ববোধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে পরস্পর সুধারণা করার প্রতি উৎসাহিত করে এবং ব্যক্তির গোপনীয়তাকে সংরক্ষণ করে।
