রিলস্ যখন মানসিক স্বাস্থ্যের বারোটা বাজাচ্ছে!
Mental Health Awarness বা মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতার অংশ হিসেবে আমি আজকে আমাদের সবার অত্যন্ত জীবনঘনিষ্ঠ একটা বিষয় নিয়ে লিখতে চাই এবং সেটা হলো- রিলস (Reels)!!!
এই ১০-১৫ সেকেন্ডের ছোট ছোট রিলস যে আমাদের অনেকের মানসিক স্বাস্থ্যের বারোটা বাজায়ে দিচ্ছে, সে সম্পর্কে আমরা অনেকেই বেখবর!
দেখতে মনে হয়, যেন জাস্ট ৮-১০ সেকেন্ডের একটা রিলস! বাট তাতেই আমাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হয়ে যায়। কনসান্ট্রেশন হারিয়ে যায়, ফোকাস নষ্ট হয়। আমাদের সময় কি এতই সস্তা!
তারপর আসুন, এই রিলস কীভাবে আপনার-আমার Concentration বা মনযোগ কমিয়ে দেয় সেই সম্পর্কে।
আপনি যদি ভাল মতো রিলসে আসক্ত হন, তাহলে দেখবেন আপনার মনোযোগ দেবার ক্ষমতা অনেক কমে গিয়েছে। আপনি সহজেই, অল্প সময়ে আউটপুট পাইতে চান! দীর্ঘমেয়াদি কাজে মন বসে না! কারণ আপনি রিলস দেখতে দেখতে অল্পতেই আউটপুট পাইতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছেন, আপনার ব্রেইন এভাবে গ্রো আপ করেছে। দশ সেকেন্ডের একটা রিলস আপনাকে হাসায়, আবার এই দশ সেকেন্ডের একটা রিলস আপনার মনে বেদনার উদ্রেক ঘটায়। এখন আপনার ১২০ পৃষ্ঠার একটা বই সময় নিয়ে আর পড়তে মন চায় না। মনযোগ ধরে রাখতে পারেন না। ২০-৩০ সেকেন্ডে বইয়ের সামারিটা পেয়ে যেতে মন চায়! এখন আপনার দুই ঘণ্টার একটা ডকুমেন্টারিতে মন বসে না, অল্প সময়েই তার আউটপুট পেয়ে যেতে মন চায়!
টিএসসিতে একটা সেশানে ফিটনেস স্পেশালিস্ট বলছিলেন, আমরা যেন রিলস দেখা নিয়ন্ত্রণ করি। কারণ, এটি খুব দ্রুত ডোপামিন নিঃসরণ করে। (ডোপামিন হলো মস্তিষ্কের বিশেষ এক ধরনের পদার্থ যা আমাদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে)
একটু রূপকভাবেই ধরুন, আপনার ব্রেইনে এক দিনে খরচ করার মতো দশ মাত্রার ডোপামিন আছে। আপনি যদি রিলস দেখে খুব দ্রুত এটা খরচ করে ফেলেন, তারপর দিনের বাকি সময়টা আপনার মন খারাপ হয়ে থাকবে, ভাল্লাগবে না; এন্ড আমাদের কিন্তু সেটাই হয়। দশ সেকেন্ডের একটা রিলস আমাদের হাসায়, আবার রেন্ডম আরেকটা রিলসে হয়তো আমাদের মন খারাপ হয়ে যায়; ওটাতে আমরা স্যাড রিয়্যাক্ট দেই, একটু স্যাড হই। এরপর আবার ধরুন হুট করে আরেকটা রিলস আসলো যাতে আপনি নস্টালজিক হয়ে গেলেন…এভাবে চলতে থাকে এবং একটা সময় গিয়ে আমাদের আর কিছু করতে ভাল লাগে না। আপনি সাময়িক আনন্দ পেলেও একটা সময় গিয়ে ডোপামিন নিঃসরণের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে যায়। কোনো কাজে মন বসে না, আগ্রহ হারিয়ে যায়। এটাকে ‘ডোপামিন হাইজ্যাকিং’ও বলা যেতে পারে।
তাই, আসুন আমরা রিলস দেখা নিয়ন্ত্রণ করি এবং জীবনমুখী দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যের জন্য কাজ করি এবং সময়ের অপচয়ের ব্যাপারে সচেতন হই।
