ভৈরবে ইপিজেড চাই।
কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব একটি অন্যতম উপজেলা। দেশের ৬৫ তম জেলা হিসেবে প্রস্তাবিত এই ভৈরব উপজেলা। এ উপজেলার সঙ্গে রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নরসিংদী জেলার সংযোগ। বন্দর নগরী ভৈরবের বেশীরভাগ মানুষ ব্যবসায়ী। সারা দেশের কয়েকটি পাইকারি কয়লা বিক্রয় কেন্দ্রের মধ্যে ভৈরব একটি অন্যতম। ভারতের মেঘালয় থেকে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর টেকের ঘাট হয়ে নদী পথে ভৈরবে কয়লা আমদানি করা হয়। ইট ভাটা ও রড তৈরির কারখানায় প্রতি মৌসুমে গড়ে দৈনিক তিন হাজার টন কয়লা যায়। এখান থেকে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে রাসায়নিক সার, খাদ্য শস্য, পাথর, । এখানে রয়েছে পাদুকা শিল্প , কয়লা ,কাঠ ও জুতা ইত্যাদি । ভৈরব থেকে জুতা বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হয়। এছাড়াও রয়েছে কাপড়ের বিশাল পাইকারি বাজার। শুধু আমদানি পণ্য নয়, বরং প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার অভ্যন্তরীণ পণ্যের বড় বাজার এই ভৈরব । প্রায় সব কিছু মিলে ২০ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন, জর্ডান ও কানাডা সহ অসংখ্য দেশে আমদানি-রপ্তানি করা যায়। প্রতিনিয়ত ভৈরব বাজারে কয়েক শত কোটি টাকার লেনদেন করা হয়। ভৈরব বাজারে এই ব্যবসা বাণিজ্যের উপর নির্ভরশীল প্রায় ৩ লক্ষ মানুষ। ভৈরব উপজেলার বিশাল মেঘনা নদী অববাহিকায় আধুনিক কৃষি, ইকো-ট্যুরিজম ও রপ্তানিমুখী অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকা থেকে মাত্র ৩-৪ ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত এ অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করে এখানে উন্নত বিশ্বের আদলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, ফরমালিন মুক্ত কৃষিপণ্য, শাক-সবজি উৎপাদন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ জৈব ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা ও বিদেশে রপ্তানির বিশাল সুযোগ রয়েছে।
সর্বোপরি , মেঘনা নদীর মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ, নদী কেন্দ্রিক জীবনধারা ও জীববৈচিত্র্যকে কেন্দ্র করে ইকো-ট্যুরিজম নির্ভর ইপিজেড ও ইকোনমিক জোন গড়ে তোলা সম্ভব। এখানে কোল্ড স্টোরেজ ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প কারখানা স্থাপন, অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে । ভৈরব উপজেলা ও মেঘনা নদী কেন্দ্রিক ইপিজেড ও ইকোনমিক জোন বাস্তবায়ন করা এখন সময়ের দাবি। দেশের অর্থনীতি, কৃষি, পর্যটন ও রপ্তানি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। যা দেশের বেকারত্ব দূরীকরণে এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বড় ভূমিকা পালন করবে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, ভৈরব উপজেলায় ইপিজেড স্থাপনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিন।
মোঃ শরীফুল ইসলাম, শিক্ষার্থী, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা কলেজ, ঢাকা।
