বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

কৈশোরের রোদ্দুর

Author

সেঁজুতি মুমু , বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশ: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাঠ: ২৭ বার

তখন গ্রীষ্মকাল। প্রচন্ড গরমে জনজীবন বিধ্বস্ত। আমি তখন অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়ন করি। লম্বা চুল,চোখে চশমা প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট লম্বা একজন কিশোরী। স্বভাবে বেশ দুরন্ত ও খুবই জেদী। মায়ের কাছে যেটা আবদার করতাম, নিয়েই ছাড়তাম। আমার প্রতিবেশী বন্ধু সদ্য নতুন মোবাইল কিনেছে। তা দেখে আমার তো মাথা নষ্ট! আমারও মোবাইল চাই। এত কম বয়সে মা মোবাইল দিবেন না। আমিও সারাদিন না খেয়ে, ঘরের দরজা লাগিয়ে দিয়ে কাঁদছিলাম। মায়ের মধ্যে চলছিল দ্বন্দ, “একমাত্র বাচ্চা তারউপর কিশোরী, এসময় মানসিক অবস্থা অনেক সেন্সেটিভ থাকে!” সব দিক বিচার করে আমার জেদের কাছে হেরে গিয়ে মা আমাকে টাকা দিলেন মোবাইল কেনার। জীবনে প্রথম আট হাজার টাকা দিয়ে “মাইক্রোম্যাক্স এন্ড্রোয়েড মোবাইল” কিনলাম। আমি পাড়ার সবাইকে আমার মোবাইল দেখিয়েছিলাম। খুশিতে আত্মহারা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু মায়ের শর্ত ছিলো, “ফেসবুক আইডি চালানো যাবে না,নিজের ছবি সোশাল মিডিয়ায় দেয়া যাবে না।”

আমি ছিলাম নাছরবান্দা। বের করে ফেললাম দুষ্টু বুদ্ধি! তখন টিভিতে বিখ্যাত মহাভারত ড্রামা সিরিজ হতো। আমি ছিলাম অগ্নিকন্যা দ্রৌপদীর বড় ফ্যান। তো ফেক আইডি খুললাম, “অগ্নিকন্যা” নামে। আমার জীবনের প্রথম ফেসবুক আইডি ছিল ওটা। আর প্রোফাইল পিক দিয়েছিলাম যিনি মহাভারতে দ্রৌপদীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর, তথা “পুজার শর্মা”-র ছবি। তারপর মহাভারতের বিভিন্ন ফ্যান গ্রুপে যুক্ত হই। এমন সময় একজনের সাথে পরিচয়। তার আইডির নাম ছিল, “গান্ডিবধারী অর্জুন”। ওটাও ফেক আইডি ছিলো। ছেলেটার কোনো ছবি আমি দেখি নি, কারণ প্রোফাইলে অভিনেতার ছবি দেয়া ছিলো। ধীরে ধীরে মেসেজে কথা বাড়ছিল। আমি তখন কিশোরী বয়সের আবেগে ভাসছিলাম। বিপরীত লিঙ্গের প্রতি আকর্ষণ, ভালোলাগা এই অনুভুতিগুলো বুঝতে শুরু করেছিলাম। এমন সময় এক তরুণের সাথে যোগাযোগ। আস্তে আস্তে কথা বলা বাড়ছিল। কোনোদিন কল দেই নি। শুধু মেসেজে কথা হতো। ওই ছেলেটা নানাভাবে আমাকে ভালোলাগার কথা বলতো। আমার মনে আছে একটি কথা।

“ তুমি অগ্নিকন্যা দ্রৌপদী আর আমি অর্জুন। মানে আমাদের সম্পর্কটা বুঝছ?”

আমি বুঝেও না বোঝার ভান করতাম। ছেলেটা আমার রোজ খবর নিতো। স্কুল, টিউশন শেষ করে যে সময়টা পেতাম , ওই ছেলেটার সাথে চ্যাটিং করতাম। একটা ভালোলাগার অনুভুতি আমার হৃদয়ে স্থান করে নিচ্ছিল। তারপর ছেলেটা নিজের ছবি দিয়েছিল। দেখতে তেমন ভালো নয়। তবে সেই মুহুর্তে আমার ভালো লেগেছিল। এখন মনে পড়লে হাসি পায়! ওর চেয়ে কতো সুদর্শন যুবক আমায় প্রোপজ করেছে তাদেরকেই পাত্তা দেই নাই, আর তখন সেই ছেলেটাকে সুদর্শন মনে হয়েছিল! অথচ সে নিজের মোবাইলে তোলা কোনো ছবি দেয় নি। হয়ত কোনো ফর্ম পুরোনের জন্য ছবি তুলেছিল, সেই পাসপোর্ট সাইজ ছবি আমাকে সেন্ড করেছিল। তারপর একদিন ছেলেটার সাথে আমার মনোমালিন্য হয়। দুইদিন কথা হয় নি। আমি ফেসবুকে এক্টিভও হই নি। অত:পর দুইদিন পর মেসেঞ্জারে ঢুকে দেখি সেই ছেলে একশতর বেশিবার সরি লিখে পাঠিয়েছে! যাই হোক আমি গলে গেলাম। ওভাবে রোজ চ্যাটিং হতো। এর কয়েকদিন পর আমার আইডি ডিসেবল হয়ে যায়। আমি এরপর নিজের আসল নামে ফেসবুক আইডি খুলি। মজার বিষয় হলো প্রায় দুইমাস চ্যাটিং করেও আমরা কেউই কারো নাম, ঠিকানা জানার প্রয়োজন বোধ করি নি। পরে ওই ফেইক আইডিটা খুঁজেছিলাম, কিন্তু আর পাই নি। ধীরে ধীরে আমি সব ভুলে যাই। এখানেই কাহিনির সমাপ্তি। ওটাই ছিলো আমার জীবনে প্রথম ভালোলাগার অনুভূতি, একে ভালোবাসার নাম দেয়া অনুচিত। কিশোর বয়সের প্রথম ভালোলাগা! আজ মহাভারতের দ্রৌপদীর স্বয়ম্ভর সভার এপিসোড দেখে, হঠাৎ স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠলো সেই অতীত।

লেখক: সদস্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।