বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

ভর্তা কাহন: বাঙালি সংস্কৃতির এক ঝলক

Author

মোঃ রুহুল আমিন , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৫ পাঠ: ৩৪ বার

মো. রুহুল আমিন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চলছে। চারদিকে তপ্ত রোদ চির সবুজ ঘাসের মাঠে গাছের ছায়ায় বসে ক্ষুধার্ত বাঘ যেমন শিকারের অপেক্ষায় থাকার পর শিকারের দেখা পায়, তেমনি ক্ষুধার্ত ক্লান্ত শরীরে চিকন চালের সাদা ভাত সাথে হরেক রকমের ভর্তা- এ যেন অমৃতের চেয়েও সুস্বাদু। বলছিলাম গাইবান্ধা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার ব্যতিক্রমী ভর্তা উৎসবের আয়োজনের কথা। আগের দিন সাধারণ সভায় জুনিয়ররা সভাপতির কাছে বায়না ধরলো ভাই কিছু একটা প্রোগ্রামের আয়োজন করেন। সভাপতি বলে বসলো আমি তো আয়োজন করতে চাই, কিন্তু তোমাদের সাড়া পাই না। এর মধ্যে অনেকে অনেক কিছুর প্রস্তাব দিয়েছে, তবে ভর্তা উৎসবের আয়োজন করলে কেমন হয়?

যেই কথা সেই কাজ। সবাই রাজি হলো এবং কাল যেহেতু ক্যাম্পাস বন্ধ তাহলে কালকেই হয়ে যাক। কথা অনুযায়ী সকালে বাজারে যাবো এবং বাজার শেষে রান্না শেষ করে দুপুরের খাবার খাবো। সকালে হল থেকে বের হইতেই সেক্রেটারির সাথে সাক্ষাৎ। তাকে নিয়ে জিয়া মোড়ে বসে হুমায়ুন এবং শাহজানকে ফোন দিলাম। আমার ফোনে হুমায়ুনের ঘুম থেকে জাগা পেয়ে তৈরি হয়ে চলে আসলো। শাহজাহান বললো ভাই ডায়নাতে আছি সকালে বের হয়েছি ছবি তুলতে। সে অবশ্য ভালো ছবি তোলে। শাহজাহানের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় বসে আছি। একে একে হাজির হলো হুমায়ুন, শাহজাহান, আশিক, মুনতাসির, হিমেল, হক্কানি এবং সজিব। ওদের নিয়ে বাজারে গেলাম। বাজার করে টিএসসিসিতে আসলাম। এর মধ্যে ইদ্রিস এবং রিমঝিম রান্নার জিনিস পত্র নিয়ে হাজির। আমি রিমঝিম এবং মুনতাসিরকে রান্নার সকল দায়িত্ব বুঝিয়ে দিলাম। সবাই কাজে লেগে পড়লো। কেউ হাড়ি ধোয়া, পেঁয়াজ মরিচ কাটা, আদা রসুন ছেলাসহ বিভিন্ন কাজে লেগে পরলাম। শুরু হলো রান্নার আয়োজন।

সবাই রান্নার কাজে ব্যস্ত এর মাঝে উপস্থিত হলো সংগঠনের সহ-সভাপতি আশিক। সে রসিক মানুষ, সজিব রসিকতা করে বলে উঠলো ভাই আপনার সঙ্গী আপুটা কই। মূলত রিইউনিয়নে আশিক এবং সাথী উপস্থাপনার দায়িত্ব পালন করেছিল সেই জন্য ও এভাবে বলছিল। বলতে বলতে কাম চোর (যে কাজ দেখে ভয় পায়) সাথী হাজির। সাথী মেয়েটা অনেক মজার মানুষ। আসার সাথে সাথীকে বললাম তোরে জুনিয়র খোঁজে। সে সজিবকে বললো কিরে খুঁজিস সিনিয়র আপুর র‌্যাগ খাবি। সজিব প্রথমে একটু ভ্যাবাচাকা খেয়ে পরে মজার ছলে বলছে ভেবে ও রসিকতা শুরু করলো। আমাদের রসিকতার মাঝে থেমে নেই রান্নার কাজ। রিমিঝিম, সিনতা, রমজান, মুনতাসীর, আশিক, নুরুল, আয়শারা রান্নার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

দুপুর হওয়ায় সবাই হালকা ক্ষুধার্ত হয়ে পড়লো। তারপর চারদিকে রান্নার ঘ্রাণ ক্ষুধার মাত্রাটা অঅরো বাড়িয়ে দিচ্ছিলো। হুমায়ুনকে পাঠালাম বিস্কুট নিতে। একটু পর হুমায়ুন বিস্কুট নিয়ে আসলো, জুনিয়ররা সাথীর কাছে বায়না ধরলো আপু চা খাবো। রান্নার কাজের মাঝে একবার চা-বিস্কুট চক্র হয়ে গেল। চা খাওয়ার সময় ক্যামেরা নিয়ে হাজির শাহজাহান। ক্যামেরার লেন্স দেখে আশিক এবং সাথী হয়ে গেল রাধুনি। শুরু হয়ে গেল রান্নার ভান ধরে ছবি তোলা কাজ। ছবি তোলার মাঝেও সিনতা, রিমঝিম, আয়েশা, মাহফুজাসহ কয়েকজন ছেলে ভর্তার কাজে ব্যস্ত। রান্না শেষ এবার ক্রিকেট মাঠে সবুজ ঘাসের উপর বসে খাবার পালা। সারাদিন বাজার রান্নার কাজ করে ক্ষুধার্ত এর পর সামনে লোভনীয় হরেক রকমের ভর্তা ক্ষুধা বাড়িয়ে দিচ্ছিল। সাথী ব্যস্ত প্লেট সাজিয়ে ছবি তুলতে। সাথীর সাজানো প্লেট নিয়ে ছবি তোলার সিরিয়াল শুরু হয়ে গেল। খাবার প্লেটে পেলাম আলু, কচুর মুখি, ডাল, ডিম, রসুন, ধনিয়া, কলা, মিষ্টি কুমড়া এবং বাদাম ইত্যাদি সহ হরেক রকমের ভর্তা, সাথে মুরগীর মাংস। ক্ষুধার্ত শরীরে চিকন চালের গরম ভাত সাথে হরেক রকমের ভর্তা এ যেন মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টি।

খাওয়া দাওয়া শেষ করে হাফিজ কোচিং সেন্টারের পরিচালক সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ থেকে মেজো খাওয়ার ব্যবস্থা হলো। এরপর শুরু হলো ফটোসেশান পর্ব। ক্যামেরামান শাহজাহান হয়ে উঠলো আবার ব্যস্ত। বন্ধু বান্ধব, সিনিয়র জুনিয়র সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়লো রঙ্গিন সময়গুলো ফ্রেমবন্দী করে রাখতে। এইতো আছি আর কয়দিন ক্যাম্পাসে। তারপর সবাই চলে যাবো যার যার গন্তব্যে। শুধুমাত্র স্মৃতি হয়ে থাকবে এই ছবিগুলো।

 

 

লেখক: সভাপতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রতিদিনের সংবাদ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!