শেকড়ের টানে, হৃদয়ের বন্ধনে মিলনমেলা

ইবি ক্যাম্পাসের বটতলায় বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা, জিয়া মোড়ে বসে সোবহান মামার দোকানের চা, ঝাল চত্বরের বসে হরেক রকমে মাখা খাওয়া, টিএসসিসির বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সভা, ক্লাসের ফাঁকে মফিজ লেকের আড্ডা সব চোখের সামনে ভেসে উঠছিলো গাইবান্ধার থ্রি ক্যান্ডেল রেস্টুরেন্টে। বলছি গাইবান্ধা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম পুনর্মিলনীর কথা।মিলনমেলায় একত্রিত হয়ে আমরা যেন ফিরে গিয়েছি স্মৃতির শহরে। এই আয়োজন শুধু শুধু পুনর্মিলনী নয়, এটি আমাদের শিকড়ের টান, হৃদয়ের বন্ধন। গাইবান্ধা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা গাইবান্ধায় প্রথমবার একত্রিত হয়েছিলো।
সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে গোসল ও খাওয়া দাওয়া শেষ করে বাসা থেকে ইজিবাইকে চড়ে গোবিন্দগঞ্জ গিয়েছিলাম। সেখানে গিয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাক্কানীর সাথে রওনা দিলাম গাইবান্ধার উদ্দেশ্য। বাসস্ট্যান্ডে থেকে নেমে রিকশায় ঘাঘট নদীর পাড়ে পুনর্মিলনীর ভ্যেনুতে গেলাম। একে একে সবাই আসতে লাগলো। রেজিষ্ট্রেশন সম্পুর্ন করে পুনর্মিলনীর টিশার্ট হাতে পেলাম। টিশার্ট গায়ে জরিয়ে সিনিয়রদের সাথে পরিচয় এবং কুশলাদি বিনিময় চলতে থাকলো। সময় হলো দুপুরের খাবারের। আমি আশিক, মেরিন ভাই, তৌফিক ভাই সহ ছয় জন এক টেবিলে খাইতে বসলাম। খাবার টেবিলে বিভিন্ন খোশগল্প চলছিলো। এর মধ্যে ছোট ভাই শাহজাহানের ক্যামেরার লেন্স পড়লো আমাদের টেবিলে৷ ক্যামেরা ম্যানের উপস্থিতি টের পেয়ে তৌফিক ভাই গল্পের মোড় অন্য দিকে ঘুরিয়ে নিলেন। মেরিন ভাই খাবারের প্রসাংশা করতে লাগলেন এবং তার প্লেটের মাংসের পিস গুনতে শুরু করলেন। আশিক এই সুযোগে মেরিন ভাইয়ের প্লেট থেকে মাংস চুরি করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলো। মেরিন ভাই আন্দাজ করতে পেয়ে নিজের প্লেটের খাবার রক্ষা করতে টেবিল ছেড়ে পাশের টেবিলে চলে গেলেন। তৌফিক ভাইকে সেই দৃশ্য দেখতে বলে আমি তার প্লেট থেকে ১ টুকরো মাংসো উঠিয়ে নিলাম। নানা গল্প এবং খুনসুটির মধ্যে আমাদের খাওয়া দাওয়া শেষ হলো।
সংগঠনের সহ-সভাপতি আশিকুর রহমান ও যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহনাজ সাথীর সঞ্চালনায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত এবং গীতা পাঠের মধ্যে দিয়ে আমাদের অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হলো। বর্তমান সভাপতি মো: রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মো: শিপন মিয়া স্যার এবং বিশেষ অতিথিরা আসন গ্রহণ করলেন। আনুষ্ঠানিক পরিচয় পর্ব এবং স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য শুরু হলো। কৃতি শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাম্পাস এবং কর্ম জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বললেন। তাদের ক্যাম্পাস জীবনের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনা শুনে তাদের স্মৃতির সাথে নিজের চরিত্রকে মেলাতে শুরু করলাম। দেহটা গাইবান্ধায় থাকলেও মনে হলো আমি আছি ইবির সবুজ শ্যামল ১৭৫ একরে।
এল্যামনাইরা তাদের ক্যাম্পাস জীবনের সুখ ও দুঃখের পাশাপাশি সমিতির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরলেন। সমিতিতে গাইবান্ধার মানুষের সাথে পুরনো দিনের কাটানো সময় তুলে ধরলেন। এল্যামানাইদের কাছে থেকে তাদের সংগ্রামের গল্প শুনলাম। তারা ক্যারিয়ার বিষয়ক বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করলেন। সমিতির কার্যক্রম নিয়ে পরামর্শ প্রদান করলেন। সাবেকরা গাইবান্ধা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতি কিভাবে ছাত্রদের কল্যাণে কাজে আসবে তার রূপরেখা প্রদান করলেন। এল্যামনাই এ্যসোশিয়েশন গঠনের প্রস্তাব ও তুলে ধরলেন। বক্তব্যের মাঝে মাঝে গান, কৌতুক এবং কবিতা আবৃত্তি মাধ্যমে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিলো।
আনুষ্ঠানিক প্রোগ্রাম শেষ করে আমরা স্মৃতির এ্যালবাম কে সমৃদ্ধ করতে ফটোসেশান শুরু করলাম। গ্রুপ ছবি উঠানোর পর আমরা একে অপরের সাথে ছবি তুলতে লাগলাম। ছবি তোলা শেষে আমরা ঘাঘট নদীর ধারে টং দোকানে চা খেতে বসলাম। সেখানে অনানুষ্ঠানিক ভাবে চায়ের কাপে আমাদের আড্ডা জমে উঠলো। প্রতিটি সূর্যাস্ত যেমন নতুন ভোরের বার্তা দেয় তেমনি নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিয়ে আমাদের আড্ডা শেষ হলো।
প্রিয় মানুষদের সাথে হাসি, আনন্দ, গান, গল্প আর আড্ডায় আজকের দিনটি হয়ে থাকবে আমাদের জীবনের এক স্মরণীয় অধ্যায়।
লেখক,
শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া এবং সভাপতি , বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

