বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

Author

মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন , কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ, কুষ্টিয়া

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ পাঠ: ৮০ বার

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন

অ্যানথ্রাক্স একটি সংক্রামক রোগ, যা Bacillus anthracis নামের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা হয়। এটি মূলত গবাদি পশু, বিশেষত গরু, ভেড়া ও ছাগল থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়। মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার কাজিপুর ও মটমুড়া ইউনিয়নের গ্রামগুলোতে গবাদি পশু অ্যানথ্রাক্স সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছে বলে ধারণা অনেকের। এর সংস্পর্শে এসে আক্রান্ত হচ্ছেন খামারিরা। আক্রান্ত পশু জবাই করে কম দামে মাংসও বিক্রি করা হচ্ছে। এসব অসুস্থ পশুর মাংস খেয়ে আক্রান্ত হচ্ছে অনেকেই।

আক্রান্ত ব্যক্তির হাতের নখের গোড়া ফুলে যাচ্ছে, হাতে ফোসকার মতো দেখা দিচ্ছে, কারো কারো হাতে ঘা হচ্ছে। উপসর্গ দেখা দিলে অনেকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছে। অবস্থা গুরুতর হলে সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছে, কিন্তু সেখানে মানসম্মত চিকিৎসা পাচ্ছে না। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মেহেরপুর জেলায় চলতি বছরে ৪৪৩ জন অ্যানথ্রাক্সে আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৯৭ শতাংশই গাংনী উপজেলার।

অ্যানথ্রাক্স ছড়িয়ে পড়লেও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গবাদি পশুর মৃত্যুঝুঁকি বাড়ছে এবং খামারিরা লাখ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। অসুস্থ পশু জবাই ও বিক্রি রোধে স্বাস্থ্য বিভাগের সচেতনতা কার্যক্রমেও কার্যকর পদক্ষেপ নেই। এই মুহূর্তে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে জনজীবন হুমকির মুখে পড়বে। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কার্যকর পদক্ষেপই অ্যানথ্রাক্স মোকাবেলার মূল চাবিকাঠি। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় দ্রুত সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো অত্যন্ত জরুরি।

অ্যানথ্রাক্স প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসাধারণের মাঝে সঠিক তথ্য প্রচার করতে হবে। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

মুহাম্মদ শাফায়াত হুসাইন

শিক্ষার্থী

লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!