নারীর ওয়াশরুম সংকট : একটি উপেক্ষিত জনস্বাস্থ্য সমস্যা
নারীর ওয়াশরুম সংকট
একটি উপেক্ষিত জনস্বাস্থ্য সমস্যা
পাবলিক ওয়াশরুমের সংকট যেন একটি স্বাভাবিক বিচ্ছিন্ন বিষয়। আবার নারীর জন্য আলাদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেট আশা করা যেন অসম্ভব প্রত্যাশা। এটি শুধু একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয় বরং লিঙ্গ বৈষম্য, মানবাধিকার ও নগর পরিকল্পনার ব্যর্থতার প্রতিফলন। যে কারণে নারীরা বাইরে যাওয়ার আগে ভাবেন, ‘ওয়াশরুম পাব তো?’
WaterAid Bangladesh-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের বড় শহরগুলোতে পাবলিক টয়লেটের সংখ্যা চাহিদার তুলনায় অত্যন্ত কম এবং অনেকগুলোই ব্যবহারের যোগ্য নয়। এছাড়াও অন্য একটি রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ৬টি বড় শহর ও রেলওয়ে মিলিয়ে মাত্র ১৩৭টি পাবলিক টয়লেট রয়েছে প্রায় ২ কোটি মানুষের জন্য। অন্যদিকে ঢাকায় প্রায় ১২২টি পাবলিক টয়লেট থাকলেও, এর মধ্যে মাত্র ৫০টির মতো ব্যবহারযোগ্য।
জনসংখ্যার চাহিদার তুলনায় পাবলিক টয়লেটের এত স্বল্পতার মধ্যে নারীর জন্য আলাদা ওয়াশরুম কল্পনা করা যেন বিলাসিতা। অথচ প্রাকৃতিকভাবেই নারীরা পুরুষদের তুলনায় ওয়াশরুম ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বেশি অনুভব করেন। কিন্তু পর্যাপ্ত ওয়াশরুম না থাকার কারণে তারা বেশিরভাগই বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা ও অসুখে ভোগেন।
দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখার ফলে কিডনি ও মূত্রথলির জটিলতা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও প্রস্রাব চেপে রাখা গর্ভবতী নারীদের জন্য ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। মাসিকের সময় নারীরা বাইরে বের হলে, সর্বোচ্চ অভাববোধ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন একটি ওয়াশরুমের। পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায়, দীর্ঘসময় একই প্যাড ব্যবহার করতে বাধ্য হয়, যা পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জটিল রোগ সৃষ্টিতে সহায়ক।
তাই দীর্ঘ সময়ের জন্য বের হলে নারীরা সবসময় একটি মানসিক চাপে থাকে। আবার নারী-পুরুষের আলাদা ওয়াশরুম ব্যবস্থা না থাকায়, একই ওয়াশরুম ব্যবহার করতে গিয়ে সংকোচে পড়তে হয়। আধুনিক যুগে বসবাস করেও আমাদের দেশের নারীরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেটের অভাবে ভুগছে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য যতটুকু আলোচনা প্রয়োজন তাও হচ্ছে না। শহরগুলো থেকে শুরু করে সরকারি সকল অফিস ও প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত ওয়াশরুমের ব্যবস্থা করে নারীর জন্য আলাদা ওয়াশরুমের ব্যবস্থা রাখার আবেদন জানাচ্ছি প্রশাসনের কাছে।
আশা মনি
শিক্ষার্থী, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা
