পার্বত্য অঞ্চলের নিরাপত্তায় রাষ্ট্রপতি জিয়ার দর্শন
পাহাড় আমাদের সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা আর নীতিনির্ধারকদের ভাবনা। তবে পাহাড় নিয়ে আমাদের নীতিনির্ধারকদের ভাবনায় যথেষ্ট ঘাটতি আছে বলা যায়। তারা পাহাড়কে দেখেন পর্যটন স্পট হিসেবে; কিন্তু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেখেছিলেন ‘প্রতিরক্ষা দুর্গ’ হিসেবে।
বাংলাদেশের মানচিত্রের দিকে নজর দিলে দেখা যায়, দক্ষিণ-পূর্ব কোণে পার্বত্য চট্টগ্রাম শুধু ভূখণ্ড নয়; বরং এটি আমাদের রাষ্ট্রের এক বিশাল কৌশলগত রক্ষাকবচ। রাষ্ট্রপতি জিয়া জানতেন, পাহাড় যদি অরক্ষিত থাকে, তবে পুরো বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়বে। তাই তিনি বহুমুখী নীতি অবলম্বনের মাধ্যমে সীমান্তসহ অভ্যন্তরীণ শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং পার্বত্য অঞ্চল উন্নয়নের একটি চমৎকার মিশেল তৈরি করেছিলেন।
রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে জেনারেল জিয়া যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তার মধ্যে অন্যতম ছিল পাহাড়ে সেনাবাহিনী প্রেরণ। স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নে ১৯৭৮ সালে তিনি গঠন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড। সেনাবাহিনীর উপস্থিতি মানেই হলো রাষ্ট্রের দৃশ্যমান ক্ষমতা, এটা তিনি জানতেন। তার শাসনামলে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাহাড়ের ইস্যুটিকে খুব সতর্কভাবে সামলেছেন। সে সময়ে ‘অপারেশন দাবানল’ শুরু হয়েছিল বিদ্রোহীদের দমন এবং দুর্গম জনপদে রাষ্ট্রের সেবা পৌঁছে দিতে। আজকের পাহাড়ের দিকে তাকালে আমরা হতবাক হই। সেখানে রাষ্ট্রের উপস্থিতি যখনই শিথিল হয়, তখনই জেএসএস বা ইউপিডিএফের মতো দলগুলো মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। আজ যখন পাহাড়ে নতুন নতুন সশস্ত্র গোষ্ঠী গজিয়ে উঠছে, তখন বোঝা যায় আমাদের রাষ্ট্রীয় নজরদারিতে কোথাও বড় কোনো সংকট রয়েছে। আঞ্চলিক রাজনীতির এই জটিল দাবার চালে বাংলাদেশ যদি পিছিয়ে পড়ে, তবে তার মাশুল দিতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মকে। আমাদের মনে রাখতে হবে শহীদ জিয়ার সেই দর্শন-‘নিজের ঘর আগে গোছাও, তাহলে বাইরের কেউ উঁকি দেওয়ার সাহস পাবে না।’
