মহান স্বাধীনতা দিবস ঘিরে “গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের মতামত ও প্রত্যাশা”

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে হাজার বছরের সংগ্রামী বাঙালি জাতি, পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাধীনতা অর্জন করে। বহুবার বিভিন্ন ভাবে, স্বাধীনতা রক্ষা মুখ থুবড়ে পরেছে কিন্তু জাতীয় ঐক্য তা প্রতিরোধ করতেও সক্ষম হয়েছে, স্বাধীনতার ৫৫তম বর্ষে পদার্পণের এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমার প্রধান প্রত্যাশা হলো সেই আদি ও অকৃত্রিম ‘ভিত্তি’গুলোর পুনরুদ্ধার। “স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান ভিত্তি ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে সম্পদ পাচারের যে শৃঙ্খল, তা ভেঙে ফেলাই ছিল ৭১-এর প্রধান চ্যালেঞ্জ। আজ আমাদের জাতীয় আয় বা জিডিপি বাড়লেও, সেই উন্নয়নের সুফল সবার কাছে পৌঁছানো তথা ‘সম্পদের সুষম বণ্টন’ নিশ্চিত করা আমাদের বড় লক্ষ্য। প্রকৃত স্বাধীনতা তখনই সার্থক হবে, যখন সমাজের প্রান্তিক কৃষক, শ্রমিক বা দিনমজুরের মৌলিক চাহিদাগুলো অনায়াসে মিটবে। তাই অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে প্রতিটি নাগরিকের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হোক আমাদের আগামীর অঙ্গীকার। তাছাড়াও, আমাদের সাংস্কৃতিক সার্বভৌমত্ব ও শেকড়ের সন্ধান করতে হবে। কারণ, একটি জাতি স্বাধীন হিসেবে টিকে থাকতে হলে, শুধু ভৌগোলিক সীমানা রক্ষা করলেই চলে না, প্রয়োজন নিজস্ব সংস্কৃতির সুরক্ষা। বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে ভিনদেশী সংস্কৃতির প্রবল জোয়ারে আমাদের নিজস্ব লোকজ ঐতিহ্য, ভাষা ও কৃষ্টি ধরে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সাংস্কৃতিক আগ্রাসন থেকে নিজেদের শিল্প-সাহিত্য ও মূল্যবোধকে রক্ষা করা আমাদের স্বাধীনতার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা ও পরিবেশগত সুরক্ষাও প্রাধান্যে রাখতে হবে। স্বাধীনতা অর্জন যেমন সাহসের কাজ, তা রক্ষা করা তেমনি প্রজ্ঞার কাজ। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করতে হলে আমাদের প্রয়োজন, যেকোনো দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে জাতীয় ঐক্য। দুর্নীতিমুক্ত শাসনব্যবস্থা, আইনের শাসন এবং যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পারলে স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি ঘরে পৌঁছাবে। ২৬শে মার্চের এই দিনে আমাদের শপথ হওয়া উচিত—আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ব, যা হবে উন্নত, আধুনিক ও মানবিক এবং মূল স্লোগান হবে, সবকিছুর উর্ধ্বে বাংলাদেশের জাতীয় জনস্বার্থ।

