বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

“অনলাইন ক্লাস নিয়ে, শিক্ষার্থীদের মতামত”

Author

মোঃ ইমন হোসেন , গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২৬ পাঠ: ২৪ বার

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের “হাইব্রিড” শিক্ষা মডেলটি বর্তমান প্রেক্ষাপটে একটি সময়োপযোগী ও সাহসী সিদ্ধান্ত। জ্বালানি সাশ্রয়ে এটি তাৎক্ষণিক সমাধান দিলেও এর দীর্ঘমেয়াদী কার্যকারিতা ও প্রভাব নিয়ে, জনমনে ইতিবাচক ও নেতিবাচক, উভয় ধরনের আলোচনা রয়েছে।

তবে আমি করি, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে কেবল “ছুটি” অথবা “অবরোধ” হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বরং এটি পরিবেশ ও আধুনিক দক্ষতা উন্নয়নের এক দারুণ মেলবন্ধন হিসেবে চিন্তা করা যেতে পারে। সপ্তাহে তিন দিন বড় শহরগুলোর শিক্ষা সংশ্লিষ্ট যানবাহন বন্ধ থাকলে বাস, সিএনজি বা ব্যক্তিগত গাড়ির জ্বালানি ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হবে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় বিশাল ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, এমনকি তখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকাকালীন লাইট, ফ্যান, এসি এবং ল্যাবরেটরির যান্ত্রিক সরঞ্জাম বন্ধ থাকবে, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাবে। পাশাপাশি, বাধ্যতামূলক এই অনলাইন ক্লাসের চর্চা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান ও ডিজিটাল সক্ষমতাকে আরও শাণিত করবে, যা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের এক ধাপ এগিয়ে রাখবে। মূলত পরিবেশ রক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর আগামীর প্রস্তুতি; উভয় দিক থেকেই এই পরিকল্পনাটি অত্যন্ত দূরদর্শী মনে হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবেও চিন্তা ভাবনা করলে, আমরা বৈশ্বিক উদাহরণ পাবো, যেমন ফিলিপাইন, ২০২৪ সালে তীব্র তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে হাজার হাজার স্কুলে সরাসরি ক্লাস বন্ধ রেখে অনলাইন মডেল গ্রহণ করে, যা জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমাতে দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা রাখে এবং জ্বালানি সংকটে রোমানিয়া নির্দিষ্ট দিনে অনলাইন ক্লাস ও স্কুলের সময় কমিয়ে দিয়ে ভবনের “হিটিং সিস্টেম” বন্ধ রাখে, যা বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস সাশ্রয়ে সহায়তা করে।

মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তটি “সংকটের তাৎক্ষণিক চিকিৎসা” হিসেবে চমৎকার। তবে এটি যেন দীর্ঘমেয়াদী অভ্যাসে পরিণত না হয়। কারণ, শ্রেণিকক্ষের প্রাণবন্ত আড্ডা আর শিক্ষকের সরাসরি সান্নিধ্য ছাড়া শিক্ষা পূর্ণতা পায় না। এছাড়াও আমাদের দেশের ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের জন্য এই তিন দিনের অনলাইন ক্লাসের চাপ নিতে পুরোপুরি প্রস্তুত না। তাই এতে বরং এক ধরনের “ডিজিটাল বৈষম্য” তৈরি হবে। এমনকি উল্লেখযোগ্য একটি সীমাবদ্ধতা হলো, হয়তো আপাত দৃষ্টিতে প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যুৎ সাশ্রয় হলেও লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী নিজ বাড়িতে ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং ফ্যান-লাইট ব্যবহার করবেন, যা আসলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্থান পরিবর্তন মাত্র।

লেখক: সভাপতি, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ক্যাম্পাস রিপোর্ট ২৪ পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!