“স্নায়ু-বৈচিত্র্য: ব্যাধি নয় বরং অনন্য বৈশিষ্ট্য”

“স্নায়ু-বৈচিত্র্য: ব্যাধি নয় বরং অনন্য বৈশিষ্ট্য”
২রা এপ্রিল ২০২৬, বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস। প্রতি বছরই দিবসটিতে কোন একটি বিষয় বস্তুকে গুরুত্ব দেয়া হয়। ২০২৬ সালে প্রতিপাদ্য হলো- “অংশগ্রহণমূলক সমাজ ও কর্মসংস্থান: স্নায়ু-বৈচিত্র্যের নতুন দিগন্ত” যা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, অটিস্টিক শিশুরা সমাজের বোঝা নয়। অর্থাৎ অটিজম কোনো ব্যাধি নয়, বরং এটি মস্তিষ্কের এক বিশেষ গঠনগত ভিন্নতা বা ‘স্নায়ু-বিকাশজনিত বৈচিত্র্য’ (Neuro-diversity)। যেমন অটিস্টিক ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের স্নায়বিক সংযোগ সাধারণের চেয়ে ভিন্ন হওয়ার কারণে তারা বিশেষ কিছু কাজে ( যেমন: গাণিতিক সমস্যা সমাধান, কোডিং বা শিল্পকলা ) অতি-দক্ষ হতে পারে। তাদের এই দক্ষতাকে কাজে লাগানোই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশে ‘প্রতিবন্ধী ব্যক্তির অধিকার ও সুরক্ষা আইন, ২০১৩’ এবং ‘নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট আইন, ২০১৩’ অটিস্টিক ব্যক্তিদের জন্য আইনি ঢাল, এ ধরনের আইনে ব্যাক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের যে সুনির্দিষ্ট দায়-দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, তা বাস্তবায়ন ই, এই ‘স্নায়ু-বিকাশজনিত বৈচিত্র্য’ (Neuro-diversity) কে সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক চিন্তাধারায় গ্রহণ ও সবার মতো সমান দৃষ্টিতে দেখার সুযোগ তৈরি করতে পারে। অন্যথায়, প্রতিবছরের মতো আজও সরকারি-বেসরকারি ভবনগুলো নীল আলোয় আলোকিত হবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এই নীল আলোর আভা কি সারা বছর অটিস্টিক ব্যক্তিদের জীবনে পৌঁছায়? নাকি আমরা কেবল ক্যালেন্ডারের একটি দিনকেই আমাদের সামাজিক দায়মুক্তির উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছি? আমাদের অঙ্গীকার হোক, এমন এক বাংলাদেশ গড়া, যেখানে কোনো অটিস্টিক শিশুকে তার সীমাবদ্ধতার জন্য ঘরে বন্দি থাকতে হবে না, বরং সে তার স্নায়ু-বৈচিত্র্যের শক্তি দিয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।

