প্রাথমিকেই শিখন ঘাটতি
প্রাথমিকেই শিখন ঘাটতি
একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়গুলোর একটি হলো প্রাথমিক স্তরের শিক্ষা। এই সময়ে একটি শিশু পড়তে শেখা, লিখতে শেখা, সংখ্যা ও গণিতের মৌলিক ধারণা অর্জন এবং নিজের চারপাশকে বোঝার ভিত্তি তৈরি হয়। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ ধারণাটি হতাশার। অনেক শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ বছর পার করেও শ্রেণি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা অর্জন করতে ব্যর্থ। কেউ ঠিকমতো রিডিং পড়তে পারে না, কেউ সহজ বাক্য লিখতে পারে না, আবার অনেকেই যোগ-বিয়োগের সাধারণ হিসাব কষতে সমস্যায় পড়ে। এর ফলে প্রাথমিক স্তরেই তৈরি হচ্ছে মারাত্মক শিখন ঘাটতি, যার প্রভাব পরবর্তী সময়ে পুরো শিক্ষাজীবনে বয়ে বেড়াতে হয়। শিক্ষার্থীর বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী যে জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতা অর্জন করার কথা, তা অর্জিত না হলে তাকে শিখন ঘাটতি বলা যায়। পরীক্ষার খাতায় উত্তর লেখা সম্ভব হলেও বাস্তব জীবনের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জিত হয় না। দ্বিতীয়ত, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত শেখার পার্থক্য যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। একই শ্রেণিতে কোনো শিশু দ্রুত শেখে, আবার কোনো শিশুর একটি বিষয় বুঝতে বেশি সময় প্রয়োজন হয়। প্রাথমিক শিক্ষা যদি একটি ভবনের ভিত্তি হয়, তবে শিখন ঘাটতি সেই ভিত্তির মহাফাটল। ওপরের তলা যতই সুন্দরভাবে নির্মাণ করা হোক, ভিত্তি দুর্বল থাকলে পুরো ভবনই ঝুঁকিতে থাকে। তাই শিশুরা শুধু বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না, তা দেখার পাশাপাশি তারা সত্যিই শিখনফল কতটুকু প্রায়োগিক এই বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে হবে।
