রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

পণ্য হওয়ার নাম কি স্বাধীনতা?

Author

মোঃ মাজহারুল ইসলাম , সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

প্রকাশ: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পাঠ: ৮৩ বার

পণ্য হওয়ার নাম কি স্বাধীনতা?

মোঃ মাজহারুল ইসলাম

তানভীর আমার পুরনো বন্ধু। আইন বিভাগের ছাত্র এবং জাতীয় পর্যায়ের বিতার্কিক। যুক্তি দিয়ে কথা বলা তার পেশা আর প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করা তার স্বভাব। একদিন কলেজ ক্যান্টিনে চায়ের কাপ হাতে সে বলল ইসলাম নারীকে বন্দি করে রেখেছে। পর্দা, স্বামীর অনুমতি, উত্তরাধিকারে অর্ধেক। এটা কোনো ধর্ম? পশ্চিমা সভ্যতা নারীকে যা দিয়েছে ইসলাম তার ধারেকাছেও নেই।

আমি চুপ করে রইলাম কিছুক্ষণ। তারপর বললাম পশ্চিমা সভ্যতা নারীকে ঠিক কী দিয়েছে?

সে বলল স্বাধীনতা দিয়েছে। নিজের শরীর নিজের সিদ্ধান্ত।

বললাম, সেই স্বাধীন নারী কি নিরাপদ?

সে ভ্রু কুঁচকে বলল, নিরাপত্তা আর স্বাধীনতা আলাদা প্রশ্ন।

বললাম, না, আলাদা নয়। তুই আইনের ছাত্র তুই তো জানিস অধিকার আর সুরক্ষা একসাথে না থাকলে সেই অধিকার অর্থহীন। পশ্চিমের সেই স্বাধীন নারী আজ বিজ্ঞাপনে শরীর বেচছে। ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি তাকে প্রতিদিন বলছে তুমি যথেষ্ট সুন্দর নও আরও পাতলা হও আরও উন্মুক্ত হও। রাস্তায় বের হচ্ছে কিন্তু সেই রাস্তা তার জন্য নিরাপদ নয়। অফিসে যাচ্ছে কিন্তু সেই অফিসেই হয়রানির শিকার হচ্ছে। এই জীবনের নাম কি স্বাধীনতা?

তানভীর বলল, সেটা সমাজের সমস্যা। সমাজ ঠিক হলে নারী স্বাধীনতাও থাকবে, নিরাপদও থাকবে।

বললাম, দেড়শো বছর ধরে পশ্চিমা সেই সমাজ ঠিক কি করার চেষ্টা করছে। তারপরও পশ্চিমের সবচেয়ে আলোকিত শহরগুলোতে নারী নির্যাতন থামেনি বরং নতুন নতুন রূপ নিয়েছে। ক্ষমতাবান মানুষেরা বছরের পর বছর নারীকে ব্যবহার করেছে আর সভ্য দুনিয়া চুপ থেকেছে। ব্যর্থতাটা কার সমাজের, নাকি সেই দর্শনের, যেটা নারীকে উন্মুক্ততার নামে বাজারের পণ্য বানিয়ে দিয়েছে?

তানভীর নতুন যুক্তি খুঁজল। বলল, তাহলে পর্দা? এটা কি পুরুষতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ নয়?

বললাম, যে নারী নিজে বুঝে নিজে বেছে নিয়ে পর্দা করছে তার সিদ্ধান্তকে তুই সম্মান করবি না?

সে বলল, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তো জোর করা হয়।

বললাম, যেখানে জোর করা হয় সেটা ইসলামের দোষ নয় সেটা মানুষের অপব্যবহার। ইসলাম নিজেই বলেছে দ্বীনে কোনো জবরদস্তি নেই। কিন্তু পশ্চিমা বিজ্ঞাপন যখন নারীকে বলছে উন্মুক্ত হও সেটা কি জোর নয়? সমাজের চাপে উন্মুক্ত হওয়া আর সমাজের চাপে ঢেকে রাখা দুটোই যদি চাপ হয় তাহলে একটাকে স্বাধীনতা আর আরেকটাকে বন্দিত্ব বলছিস কোন যুক্তিতে?

তানভীর থামল। তারপর শেষ চেষ্টা করল। বলল, উত্তরাধিকারে নারী অর্ধেক পায় এটা বৈষম্য নয়?

বললাম, হিসাবটা মেলা। ইসলামে ছেলে বেশি পায় কারণ সংসারের ভরণপোষণের দায় তার। মেয়ে কম পায় কিন্তু সেই সম্পদ সম্পূর্ণ তার নিজের একটা টাকাও খরচ করতে বাধ্য নয়।

তানভীর বলল, কিন্তু আজকের যুগে নারীও উপার্জন করে।

বললাম, করে। কিন্তু ইসলামে সেই উপার্জনও তার নিজের স্বামীর সংসারে দেওয়া তার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। পশ্চিমে নারী সমান উত্তরাধিকার পায় কিন্তু সংসারের খরচও সমানভাবে বহন করতে হয়। হিসাবের শেষে কে বেশি পেল?

আল্লাহ তাআলা বলেছেন নারীদের জন্য রয়েছে ঠিক তেমনি অধিকার যেমন রয়েছে তাদের উপর দায়িত্ব। (সূরা বাকারা: ২২৮)

এই কথা বলা হয়েছিল সেই যুগে যখন আরবের কিছু গোত্র কন্যাসন্তানকে জীবন্ত কবর দিত আর সারা পৃথিবীতে নারী ছিল কেবল সম্পত্তি। দেড়শো বছরের নারীবাদ যা পারেনি ইসলাম সেটা চৌদ্দশো বছর আগেই বলে দিয়েছিল।

তানভীর এবার চুপ।

বাইরে তখন একটা বড় বিলবোর্ড কোনো একটা পণ্যের বিজ্ঞাপনে এক নারীর ছবি। তানভীর সেদিকে তাকিয়ে রইল কিছুক্ষণ।

আমি বললাম, ওই নারী কি স্বাধীন?

তানভীর কিছু বলল না।

বললাম, এটাই প্যারাডক্স। যাকে দুনিয়া স্বাধীন বলছে সে বাজারের শোকেসে সাজানো। আর যে নিজেকে ঢেকে রেখেছে সে কারো পণ্য নয়। রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন তোমাদের মধ্যে সেই উত্তম যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম। (তিরমিজি) যে ধর্ম নারীকে এই মর্যাদা দেয় সে ধর্ম কি নারীকে বন্দি করে? নাকি যে দুনিয়া নারীকে বিলবোর্ডে সাজিয়ে রাখে সে দুনিয়া নারীকে বন্দি করে?

তানভীর ধীরে বলল, ব্যাপারটা আমি আগে এভাবে ভাবিনি।

বললাম, এটাই তো সমস্যা। আমরা যা চোখে দেখি তাকে স্বাধীনতা ভাবি। আর যা বুঝতে পারি না তাকে বন্দি বলি।

এখন প্রশ্ন হলো তুমি কোন স্বাধীনতা চাও? চোখের স্বাধীনতা? নাকি মর্যাদার স্বাধীনতা?

মোঃ মাজহারুল ইসলাম

কবি, কলামিস্ট ও শিক্ষার্থী: আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ

সরকারি আজিজুল হক কলেজ, বগুড়া

 

লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে তারুণ্যের কলম পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!

ফোরাম ব্লাড ব্যাংক

রক্তদাতা খোঁজা হচ্ছে...

জরুরি প্রয়োজনে রক্তদাতা খুঁজুন

উপরের ফর্ম থেকে রক্তের গ্রুপ ও ঠিকানা নির্বাচন করে অনুসন্ধান করুন।