অনিশ্চয়তা (তৃতীয় ভাগ)
৪
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই স্নিধি ওর বাসার বারান্দায় সুন্দর একটা পাখি দেখতে পেল। স্নিধির পাখি সম্পর্কে ধারণা নেই। “আচ্ছা এটা কি লাভ বার্ড?” নিজেকে প্রশ্ন করে সে। পাখিটা দেখতে খুবই সুন্দর। স্নিধি এটাকে একটা বক্সে রাখলো। স্নিধি পাখিটাকে পালতে চায় কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বাড়িওয়ালীর নিষেধ। বাসার গেইটে ঝোলানো আছে:
“No pat allowed.”
কি আর করার। বুক ভরা কষ্ট নিয়ে পাখিটাকে নিয়ে স্নিধি চলে যায় ভার্সিটিতে। পাখিটা হাতে নিয়ে পুরো ক্যাম্পাস ঘুরা শুরু করে স্নিধি। এই আশায় যদি কেউ নিতে চায়। কিন্তু কেওই আগ্ৰহ দেখালো না। একপর্যায়ে স্নিধি অননকে দেখতে পেলো। সে গিটার নিয়ে বসে আছে। স্নিধি অননের কাছে যায়।
“আপনি পাখি পছন্দ করেন?”
“হ্যাঁ।”
“সত্যি? সত্যি? যাক বাঁচা গেলো!”
(অনন হাসলো)
“স্নিধি, আপনি পাখিটাকে কোথায় পেলেন?”
“আমার বাসার বারান্দায়।”
(বুঝতে পেরে) “এ্যাঁ, আপনি আমার নাম জানেন”
“হ্যাঁ। আপনাকে রোজই দেখি ক্যাফেতে।”
“ও হ্যাঁ। আচ্ছা পাখিটা রাখু আমি যাই হ্যাঁ?”
পাখিটা রেখে দৌড় দিল স্নিধি। আবার ফিরে আসলো।
“ধুর। আপনাকে তো পাখির খাবারগুলো দেওয়া হয়নি। সকালে কিনেছিলাম। আপনি এক কাজ করেন। আমার নাম্বারটা রাখুন। আমি কল দিব।”
অননকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে নোটখাতার একটা অংশে নাম্বার লিখে অননের হাতে ধরিয়ে দিয়ে আবার দৌড়ে ক্লাসের দিকে চলে এলো। অনন হাসতে লাগলো আর মনে মনে বলতে লাগলো, “ক্যাফেতে দিয়ে দিলেই তো হতো। বোকা একটা।”
৫
বাসায় এসে অনন স্নিধির নাম্বারটা সেভ করতে গিয়ে দেখে নাম্বারটা অলরেডি সেভ করা আছে। অনন বুঝতে পারলো যে এটা নিশ্চয়ই আলব্রেখটের কাজ। অনন পাখিটাকে খাঁচায় রাখলো। পাখিটা খুবই সুন্দর। এটা ‘Budgie’ ও জানে। এরা অনেকটা লাভবার্ডের মতো দেখতে আসলে লাভ বার্ড না। অনন ভাবছে আজকে আর ক্যাফেতে যাবে না। পাখিটার একটা নাম দেওয়া দরকার। ভাবতে ভাবতে অনন ঘুমিয়ে পড়ল। সে খেয়ালই করেনি যে স্নিধি হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ দিয়েছে সাতটায় ক্যাফেতে থাকতে। এইদিকে স্নিধির সিফট শেষ হয়ে গেল। ক্লোজিং টাইম। তাও সে বাসায় যেতে পারছে না। তার মনে হচ্ছে অনন হয়তোবা আসবে। রাত ১০ টা বেজে যাওয়ায় স্নিধি ক্যাফে ক্লোজ করে চলে যায়। যেন কোনো এক অনিশ্চয়তা তা
কে অপেক্ষা করতে আর দিল না।

