বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন
হোম / সাহিত্য / নিবন্ধ

চায়ের চুমুকে কৈশোরের স্মৃতি

Author

মোঃ সিফাতুল্লাহ তাসনীম , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬ পাঠ: ৪৩ বার

ঘড়ির কাঁটায় রাত দশটার কিছু বেশি বেজেছে। পিজি হসপিটাল রেখে একটু সামনে চায়ের দোকানটাতে চা খেতে খেতে শীতের মধ্যেও কেমন গরম অনুভূত হলো; চায়ের দোকানদার চা তৈরির ব্যস্ততার মাঝেও আস্তে করে ফ্যানের সুইচটা অন করে দিলো। পুরনো ফ্যান ঘোরার শব্দ আর ঠাণ্ডা-গরম অনুভূতি মিলিয়ে কেমন নস্টালজিক হয়ে গেলাম! হঠাৎ করেই বাড়ির কথা, মায়ের কথা, মনে পড়লো। আমার চিন্তাগুলো চায়ের কাপের ধোঁয়ার সাথে যেন জট পাকিয়ে গেলো; বুকে একটু ব্যথাও অনুভব করলাম!

মায়ের কথা মনে পড়ছে, মনে পড়ছে বড় বোনটার কথাও! এইতো কিছুদিন আগেও এরকম ঠান্ডা-গরম আবহাওয়ার দিনে আমি, আপু, আম্মু মিলে এক কম্বলের নীচে পা দিয়ে গল্প করতাম। মাঝে মাঝে আম্মু বা আপু ঝাল-মুড়িও বানাইতো। কষ্ট করে ঝাল-মুড়ি বানিয়ে আপুর ভাগে যখন কম পড়তো, তখন মাঝে মাঝে সে অভিমানই করতো, ঝগড়া লেগে যেতো! গ্যাঞ্জাম মিটমাট করতে আম্মু বরাবরই ছিল ট্র্যাফিকের ভূমিকায়। ভাই-বোনের ঝগড়া আম্মু মিটমাট করতো; কিন্তু আমাদের অবশ্য একটু সাবধানে ঝগড়া করতে হইতো। কারণ, কোনোভাবে আব্বুর কাছে ঝগড়ার খবর পৌঁছালে আমাকে নিয়ে আবার বিচার বসানো হবে! সেই বিচারে সম্মান-শ্রদ্ধার খাতিরে আপু পার পেয়ে যাইতো। নির্দোষ আমিই বারবার ফেঁসে যেতাম!

সে যাই হোক, এখন আপুও বড় হইসে, বিয়ে হলো তার। আমিও ঢাকায় চলে এসেছি। আপু, আম্মু ও তার নিরপরাধ ছোট ছেলেটাকে নিয়ে এখন আর মজমা জমে না। নিস্তব্ধ দুপুরে খাওয়া-দাওয়া শেষে আম্মু অনুভব করেন, তার ঘুমে এখন আর কেউ ব্যঘাত ঘটাচ্ছে না। ঘরটা তার কাছে অনেক ফাঁকা ফাঁকা লাগে! আপুর রুম এখন প্রায়শই ফাঁকা পড়ে থাকে, অথচ এটি ছিল আমাদের অলিখিত আড্ডাখানা। তাঁর নতুন ঠিকানা হয়েছে, শ্বশুরবাড়ি। আমার আস্তানা হইলো ঢাবির একটা পুরাতন হলে। আর ওদিকে একলা আম্মু রোজই অপেক্ষায় থাকে আমাদের সেই ঐতিহাসিক মজমার! আমাদের নিত্য দিনকার ঝগড়াগুলোকেও এখন তিনি মাঝে মাঝে ভীষণ মিস করেন। আব্বুও তার স্নেহভরা রাগ ঝাড়ার মত একটা সন্তানকে বোধ হয় মাঝে মাঝে বড্ড মিস করেন। অবশ্য তার কথা ঠিক জানি না, বাবারা সয়েন বেশি, প্রকাশ করেন কম! মায়েরা বোকা হন, তাই হঠাৎ হঠাতই আবেগ প্রকাশ করে ফেলেন, কখনও বা কান্না।

ভাল থেকো আব্বু, আম্মু, আপু। যত্নে থাকুক আমাদের শৈশবের স্মৃতিগুলো!❣️

– ২২শে জানুয়ারি, ২০২৫। শাহবাগ, ঢাকা।

লেখক: কার্যনির্বাহী সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!