ঐতিহাসিক মুসলিম স্থাপত্য: ষাটগম্বুজ মসজিদ
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলা বাগেরহাটের ঐতিহ্যবাহী ষাটগম্বুজ মসজিদ তার প্রাচীন ইতিহাস ও নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য বাংলাদেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হয়েছে। এটি পনেরো শতকের ঐতিহাসিক একটি মুসলিম স্থাপত্য যা তুরস্কের ধর্ম প্রচারক উলুঘ খানজাহান আলী রহ. কর্তৃক তৎকালীন খলিফাতাবাদ (বর্তমান বাগেরহাট) শহরে নির্মিত হয়েছে। । মসজিদটির নাম ‘ষাটগম্বুজ’ হলেও এতে মোট ৮১ টি গম্বুজ রয়েছে; এর মধ্যে সাত সারিতে এগারোটি করে সাতাত্তরটি এবং চার কোণায় মিনার সদৃশ উঁচু আরও চারটি গম্বুজ। তবে মসজিদটির এমন নামকরণের ব্যাপারে জনশ্রুতি আছে যে, সাতটি করে সারিবদ্ধ গম্বুজের সমষ্টি থেকে ‘সাতগম্বুজ’ ওপরবর্তীতে সেখান থেকে কালক্রমে ‘ষাটগম্বুজ’ নামে বিবর্তিত হয়েছে। কেউ বলেন, মসজিদটি প্রতিষ্ঠার পর এর ছাদ অনেক গম্বুজবিশিষ্ট হওয়ায় মানুষের মুখে মুখে ‘ছাদ গম্বুজ মসজিদ’ থেকে বিবর্তিত হয়ে বর্তমানে ‘ষাটগম্বুজ মসজিদ’ নামকরণ হয়েছে।
খানজাহান আলী রহ. সুন্দরবনের কোলঘেঁষা বাগেরহাটে আগমন করে ইসলামের প্রচার-প্রসারের কাজ শুরু করেন। তাঁর দাওয়াতে অত্র অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় নেন। ষাটগম্বুজ মসজিদ তখন আশপাশের অঞ্চলের ইসলামী শিক্ষা-সংস্কৃতি, তাহজিব-তমু্দ্দন চর্চার প্রাণকেন্দ্র হয়ে উঠেছিল। খানজাহান আলী রহ. এটিকে বিচারকার্য পরিচালনার জন্য ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়। বর্তমানে এটি ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত বাংলাদেশের বিশ্ব ঐতিহ্যসমূহের অন্যতম। ১৯৮৩ খ্রিস্টাব্দে ইউনেস্কো এই স্বীকৃতি প্রদান করে। উল্লেখ্য, মুসলিম স্থাপত্যের অনন্য নিদর্শন সম্বলিত, হযরত খাজা খানজাহান আলী রহ. এর স্মৃতিবিজড়িত বাগেরহাট শহরটিকেই ‘বিশ্ব ঐতিহ্যের শহর’- এর মর্যাদা দেয়া হয়েছে।
