নিয়োগের নীতিমালায় এই বৈষম্য কেন?

নিয়োগ নীতিমালায় এই শর্তের বেড়াজাল কেন?
বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (NTRCA) মূল উদ্দেশ্য হলো স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক তুলে বের করা। কিন্তু মাদরাসা আরবি প্রভাষক বা সহকারী শিক্ষক নিয়োগের নীতিমালার দিকে তাকালে সেই ‘মেধার মূল্যায়ন’ নিয়ে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। বিশেষ করে, যেখানে নতুন কিছু শর্ত যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে প্রার্থীর বর্তমান যোগ্যতার চেয়ে অতীতের ব্যাকগ্রাউন্ড বা সনদের উপরেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
একজন প্রার্থী যখন কঠিন প্রতিযোগিতামূলক প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখেন, তখন তার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকার কথা নয়। অথচ এর পরও অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, তার সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে ‘কারিগরি’ কারণে। পাশের অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করে দেওয়ার মানে হলো বোর্ডের পরীক্ষা পদ্ধতির উপর অনাস্থা প্রকাশ করা। বোর্ড যদি তাদের পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সেটা তাদের পদ্ধতিগত দুর্বলতা; এর দায় প্রার্থীর উপর চাপানো যায় না।
চাপানো অযৌক্তিক শর্তগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ভর্তির ক্ষেত্রে সাধারণ শিক্ষা থেকে আসা শিক্ষার্থীদের জন্যও আরবি বা ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি মনে করে একজন শিক্ষার্থী এসএসসি বা এইচএসসিতে আরবি না পড়েও অনার্স পর্যায়ে এই বিষয়ে পড়ার যোগ্যতা রাখেন, তাহলে এনটিআরসিএ কেন তাকে যাচাইয়ের আগেই শিক্ষক হিসেবে অযোগ্য মনে করবে? এটি উচ্চশিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে নিয়োগ প্রক্রিয়ার এক সুস্পষ্ট সাংঘর্ষিক অবস্থান।
এছাড়া প্রচলিত নিয়োগ ব্যবস্থায় বাংলা, ইংরেজি বা অন্যান্য বিষয়ে প্রভাষক হওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর এসএসসি বা এইচএসসিতে ওই নির্দিষ্ট বিষয়টি ছিল কিনা, তা কখনোই দেখা হয় না। কিন্তু আরবির ক্ষেত্রে এই শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই একটি বৈষম্যমূলক আচরণ।
অনেক ক্ষেত্রে প্রভাষক পদের জন্য চার বছরের অনার্স ডিগ্রি বাধ্যতামূলক, কিন্তু আরবি বিষয়ের ক্ষেত্রে আবার আলিম স্তরের আরবি বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং অনেক ক্ষেত্রে মাস্টার্স বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই একটি বৈষম্যমূলক আচরণ।
অনেকে যুক্তি দেন যে, মাদরাসার ধর্মীয় পরিবেশ বোঝার জন্য শিক্ষকদের দাখিল/আলিম ব্যাকগ্রাউন্ড প্রয়োজন। কিন্তু একই যুক্তিতে যদি বলা হয়, আরবি বিষয়টি কেবল মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য সীমাবদ্ধ, তাহলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ আরবি একটি আন্তর্জাতিক ভাষা, যা ধর্মীয় পরিসরের বাইরেও বহুমাত্রিক গুরুত্ব বহন করে।
অতএব, এনটিআরসিএ-এর উচিত অবিলম্বে আরবি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোর নিয়োগ নীতিমালা সংস্কার করা, যাতে সকল যোগ্য প্রার্থী সমান সুযোগ পায় এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।
লেখক: শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

