বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

“বাংলাদেশের অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা”

Author

মোঃ ইমন হোসেন , গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রকাশ: ৯ এপ্রিল ২০২৬ পাঠ: ১৩ বার

বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো একটি টেকসই সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। প্রথমত, আমদানিকৃত মুদ্রাস্ফীতি ও বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ন্ত্রণ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার মান সুরক্ষা করা (যেমন: টিসিবির মাধ্যমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতা বাড়িয়ে বাজারমূল্যকে সহনীয় রাখা)। দ্বিতীয়ত, বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য সংকট কাটিয়ে উঠতে হুন্ডি বন্ধ করা এবং রেমিট্যান্স প্রবাহকে আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে আনা অপরিহার্য। তৃতীয়ত, ব্যাংকিং খাতে “কাঠামোগত সংস্কার বা Structural Reform” এর মাধ্যমে তারল্য সংকট ও খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি দূর করা না গেলে বেসরকারি বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। চতুর্থত, কর-জিডিপি অনুপাত বাড়াতে গিয়ে সাধারণের ওপর বোঝা না চাপিয়ে উচ্চবিত্তের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা (যেমন: ডিজিটাল ট্যাক্স রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা)। পরিশেষে, শিল্প খাতে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FDI) আস্থা ফেরাতে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে গুণগত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই হবে অর্থনীতির সবচে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্ভাবনা ও সুযোগসমূহ একটি গতিশীল ও বহুমুখী প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। প্রথমত, ডিজিটাল ও আইটি সেক্টরের বিকাশ এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ে তরুণদের সাফল্য ডিজিটাল অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছে (যেমন: হাই-টেক পার্কগুলোতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি)। দ্বিতীয়ত, একক রপ্তানি পণ্য হিসেবে পোশাক খাতের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণ (যেমন: বিশ্ববাজারে ওষুধ ও প্রক্রিয়াজাত চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা ধরা) নতুন আয় নিশ্চিত করছে। তৃতীয়ত, পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেলের মতো বৃহৎ অবকাঠামো, যোগাযোগ ও বাণিজ্যের যে নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে, তা দীর্ঘমেয়াদী জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে জ্বালানি হিসেবে কাজ করবে। চতুর্থত, বিশাল ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করে উৎপাদনশীলতা বাড়ানো সম্ভব। পরিশেষে, বঙ্গোপসাগরের নীল অর্থনীতি ও পর্যটন শিল্প (যেমন: সমুদ্রতলদেশের খনিজ ও গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ) দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক অনন্য অর্থনৈতিক দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
লেখক: সভাপতি, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে দৈনিক প্রতিদিনের সময় পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!