শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

ঘুম ভালোবাসেন?

Author

সাদিয়া জাহান হক , ফেনী সরকারি কলেজ

প্রকাশ: ২৩ মে ২০২৬ পাঠ: ২০ বার

 

 

 

জানেন পৃথিবীতে কোন জিনিসটা সবচেয়ে মধুর? উত্তরটা সবসময়ই কিন্তু ‘ঘুম’। আমরা যখন ঘুমাই তখন আমরা সবকিছু ভুলে যাই। মনে হয় যেন অন্য এক জগতে চলে যাই, তাই না? ঘুম আমাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ যা বলে বোঝাতে হয় না।কিন্তু বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ঘুম।

 

কিভাবে?

 

আমরা ঘুমাতে চাই কিন্তু সঠিক সময়ে ঘুম আসে না। এর অনেক কারণ আছে। শরীর, মন এবং আমাদের জীবন ধারায় গোলমাল ঘুমের সমস্যার সাধারণ কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমানে আমাদের মধ্যে একটা কমন ধারণার সৃষ্টি হয়েছে যে মোবাইলের করণে ঘুমের ১২ টা বেজে গেছে। কিন্তু আসলে এটা পুরোপুরি সত্য নয়।

 

আমরা যখন কাউকে বলি, “ঘুম আসছে না অথবা ঘুমাতে পারছি না।” তখন অপরপক্ষ থেকে উত্তর আসে, “ফোন রেখে ঘুমানোর চেষ্টা কর। তাড়াতাড়ি ঘুমানোর চেষ্টা কর।” আরও কতো কি যে শোনা লাগে আমাদের। অথচ কেউ এটা জিজ্ঞেস করে না যে ওই ব্যক্তিটি ঠিক আছি কিনা। গবেষণায় দেখা যায়,

আমাদের ঘুমের সমস্যা আসলে আমাদের মস্তিষ্কের Regulation Problem; যেখানে শরীর ঘুমাতে চায়, কিন্তু মস্তিষ্ক থামতে চায় না!

 

এটা কেন হয় জানেন?

 

কারণ, আমরা Overnight Thinking বা Overthinking করি। যখন মস্তিষ্কের শান্ত থাকার বা বিশ্রাম নেওয়ার কথা, তখন সে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। এতে আপনি আমি না চাইলেও অনেক Overthinking করি এবং Stress নিই। আমাদের মস্তিষ্কে Arousal System থাকে, যা জেগে থাকা নিয়ন্ত্রণ করে। এক্ষেত্রে যাদের ঘুমের সমস্যা বা Insomnia হয় তাদের ক্ষেত্রে এই system রাতে না কমে উল্টো বেড়ে যায় বা সক্রিয় থাকে। এতে করে হৃদস্পন্দন একটু বেশি থাকে এবং যতই ক্লান্তি থাকুক না কেন ঘুম আসতে দেরি হয়। ঘুমের সমস্যা অনেক ক্ষেত্রে মেডিসিন সেবনের ওপর নির্ভর করে। কিছু হরমোন আমাদের সুষ্ঠু ঘুমে সাহায্য করে। যেমন: Melatonin, Dopamine, Norepinephrine, Histamine ইত্যাদি। Hormonal Imbalance-এর জন্য উল্লেখিত হরমোনগুলো অনিয়মিতভাবে নিঃসৃত হয়। এতে আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ঘটে এবং depression দেখা দেয়। এতে দৈহিক শক্তি হ্রাস ঘটে আমরা Hypersomnia- মতো সমস্যায় ভুগি। এর ফলস্বরূপ ৮-১০ ঘণ্টা ঘুমিয়েও শরীর দুর্বল থাকে। দিনভর ঘুম আসে কাজ করতে বিছানা ছেড়ে উঠতে ইচ্ছে করে না এবং লম্বা সময় ধরে আমরা শুয়ে বসে থাকি।

 

আবার,

 

আমাদের কিছু কর্মকাণ্ডের কারণেও আমরা ঘুমের সমস্যায় ভুগি। ঘুম আমাদের লাইফস্টাইলের সাথেও অনেকভাবে জড়িত। কেউ যদি ইচ্ছে করে ঘুম নিয়ে গড়িমসি করে, অনিয়মিত ঘুমায় অথবা দিনে ঘুমায় তাহলে তার Sleep Homeostasis বা Sleep Pressure বেড়ে যায়। ঘুমের Schedule ওলোটপালোট হলে আমাদের Circadian Rhythm (যা Biological Clock হিসেবে পরিচিত) তাতে বড় ধরণের পরিবর্তন আসে। আমাদের Biological Clock আমাদের মস্তিষ্কের Hypothalamus-এ থাকা SCN (Suprachiasmatic Nucleus) দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। রাতে যখন আমরা আলো নিভিয়ে শুই তখন এই SCN আমাদের ঘুম আনাতে Pineal Gland Melatonin নিঃসরণ করে। কিন্তু Sleep Schedule-এ অনিয়ম, Device বেশি চালানো অর্থাৎ রাতে Screen Light বা Blue Light-এর বেশি ব্যবহার, Late-night Activities SCN এর কাজে ব্যাঘাত ঘটায়। এর ফলস্বরূপ Melatonin Secretion Delay হয় এবং ঘুম দেরিতে আসে। আমারা চা কিংবা কফি খেতে অনেক পছন্দ করি। বিশেষ করে যারা কর্মব্যস্ত এবং যাদের রাত জাগতে হয় তারা একপর্যায়ে চা কফির নেশায় পড়ে যায়। এই চা কফিতে থাকে উচ্চ মাত্রার ক্যাফেইন। ক্যাফেইন আমাদের মস্তিষ্ককে সজাগ রাখে এবং ঘুমের প্রবণতা কমিয়ে দেয়। আজকাল চা কিংবা কফি কোনোটাতেই আসক্তি নেই এমন মানুষ তেমন পাওয়া যাবে না। অতিরিক্ত ক্যাফেইন আসক্তি আজকালকার যুগের অন্যতম সমস্যা।

 

বুঝতে পারছেন?

 

ঘুম না হলে অথবা ঘুমে অনিয়ম হলে অনেক ধরণের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। যেমন: কোনো কাজ ঠিকমতো করতে ইচ্ছে করে না, খাওয়া দাওয়ার ওপর থেকে মন উঠে যায়, কোনো কিছুতেই মন বসে না, পড়ালেখা করেও মনে হয় সব ভুলে যাচ্ছি, স্মৃতিগুলো ক্ষণস্থায়ী হয়ে আসে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, শক্তি কমে আসে, শরীরের ওজন বেড়ে যায়, মস্তিষ্ক মূহুর্তের জন্যও বিশ্রাম নিতে চায় না ইত্যাদি। তাই সঠিক সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং সঠিক সময়ে ঘুম থেকে ওঠা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই রুটিনের ত্রুটি দেখা দিলে জীবনটা এলোমেলো হয়ে যায়। এটা যাতে না ঘটে তাই লাইফস্টাইল ঠিক রাখার পাশাপাশি আমাদের মনেরও খেয়াল রাখা জরুরি। দিনশেষে না বললেই নয় যে, আমাদের জীবনে পরিমিত এবং নিয়মিত ঘুমের প্রয়োজনীয়তা

ও উপকারিতা অপরিসীম।

লেখক: সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!