বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : সম্ভাবনা ও সংকট

Author

বাপ্পাদিত্য চৌধুরী প্রবাল , মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ

প্রকাশ: ৩০ জুন ২০২৬ পাঠ: ৪৫ বার

https://epaper.bd-bulletin.com/share.php?q=2026/06/28/4/details/4_r6_c2.jpg

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা : সম্ভাবনা ও সংকট

মানবসভ্যতার ইতিহাসে প্রযুক্তিগত বিপ্লবের প্রতিটি ধাপই মানুষের জীবনযাত্রা, অর্থনীতি ও সমাজব্যবস্থায় গভীর পরিবর্তন এনেছে। প্রযুক্তির এই মহাবিপ্লব সভ্যতার বিকাশকে অনন্য মাত্রা দান করেছে। বাষ্পীয় ইঞ্জিন শিল্পবিপ্লবের জন্ম দিয়েছিল, বিদ্যুৎ বদলে দিয়েছিল উৎপাদন ব্যবস্থা, আর ইন্টারনেট বিশ্বকে পরিণত করেছে একটি অখন্ড বৈশ্বিক গ্রামে। আজকের একবিংশ শতাব্দীতে প্রযুক্তির সেই ধারাবাহিক বিবর্তনের সবচেয়ে বিস্ময়কর মানব আবিষ্কার হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এটি এখন আর কল্পনাপ্রসূত বিষয় নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, কৃষি, গণমাধ্যম থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে এর প্রভাব আমাদের নজরে আসে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মূলত এমন একটি প্রযুক্তি, যা কম্পিউটার বা যন্ত্রকে মানুষের মতো চিন্তা, বিশ্লেষণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং শেখার সক্ষমতা প্রদান করে। স্বাস্থ্যসেবা, কৃষিক্ষেত্র, শিক্ষা, ব্যবসা ও অর্থনীতিতেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। উৎপাদন ব্যবস্থায় স্বয়ংক্রিয়তা বৃদ্ধি, তথ্য বিশ্লেষণ এবং গ্রাহকসেবা উন্নয়নের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো কম খরচে বেশি কার্যকারিতা লাভ করছেন। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর দক্ষতার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। ফলে যারা প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন, তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্যও এআই একটি বড় ধরনের সম্ভাবনার ক্ষেত্র। তবেকৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেমন একবিংশ শতাব্দীর একটি আর্শীবাদ, তেমনি এটির রয়েছে নানা নেতিবাচক দিক। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো কর্মসংস্থানের সংকট। স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির কারণে অনেক প্রচলিত কাজ সহজেই, ঝামেলাহীনভাবে যন্ত্রের মাধ্যমে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে নিম্ন ও মধ্যম দক্ষতার বহু চাকরি ঝুঁকির মুখে পড়বে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সংকট হলো তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা। এআই পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। যথাযথ নীতিমালা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা হুমকির মুখে পড়তে পারে। এছাড়া ভুয়া ছবি, ভিডিও ও তথ্য তৈরির প্রযুক্তি, যা ‘ডিপফেক’ নামে পরিচিত- সমাজে বিভ্রান্তি, অপপ্রচার এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রেও এআই একটি নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অনেক শিক্ষার্থী এখন বিভিন্ন এআই টুলস্ ব্যবহার করে সহজে অ্যাসাইনমেন্ট, অংকের সমাধান তৈরি করছে। এর ফলে মৌলিক চিন্তাশক্তি, গবেষণার আগ্রহ এবং সৃজনশীলতার বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরী হয়েছে। প্রযুক্তিকে শেখার সহায়ক হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, বিকল্প হিসেবে নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে থামিয়ে রাখা সম্ভব নয়। এটি ধীরে ধীরে আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা একদিকে যেমন উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে, অন্যদিকে তেমনি সৃষ্টি করছে নানামুখী সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নৈতিক চ্যালেঞ্জ। সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা যদি এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে পারি, তবেঅও হবে উন্নয়নের সহযাত্রী; নতুবা এটি বৈষম্য ও অনিশ্চয়তার নতুন সংকটও তৈরি করতে পারে।

লেখক: সাধারণ সদস্য, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।
লিংক কপি হয়েছে!