বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
কানেক্টেড থাকুন:
Logo
লগইন করুন নিবন্ধন করুন

স্বপ্নচূড়ায় এক দিন

Author

আল মাসুম হোসেন , কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৩ পাঠ: ৩৫ বার

মানুষের মিলনমেলা, একে অন্যের সাসঙ্গে আলাপ,পরিচয়, আনন্দ ও উল্লাস মিলে জীবনের আনন্দঘন মুহুর্তের মধ্যে চড়ুইভাতি অন্যতম। এই চড়ুইভাতি কখনো বনভোজন কিংবা পিকনিক নামে মনের সীমাহীন কষ্ট ও দুঃখ ভুলিয়ে দেয়। 

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের ফার্মা অক্সিরেটসের (১৫তম আবর্তন) পক্ষ থেকে ফার্মা ফেনমসের (১৬তম আবর্তন) নবীনদের বরণ করে নিতে ও পড়াশোনার একঘেয়ামী দূর করতে চড়ুইভাতির আয়োজন করে থাকে। যদিওবা ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ ঘটেছে বছরের শুরুতেই কিন্তু সবারই পড়াশোনা, সেমিস্টার পরীক্ষা, এসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন ইত্যাদির চাপের কারণে পিকনিকের আয়োজন সম্ভব হয়নি। অবশেষে তা সম্পন্ন হয়েছে। বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আরো প্রানবন্ত হয়ে উঠে, সেই সঙ্গে ছিল কয়েকজন অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণ যা নতুন মাত্রা যোগ করে।

আয়োজক ব্যাচ ফার্মা অক্সিরেটস এর সকল শিক্ষার্থীরা তাদের ছোটভাইবোনদের বরণ করে নিতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে যেমন- খাওয়াদাওয়া, আড্ডা – গল্প, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন।চড়ুইভাতির স্থান হিসেবে বাছাই করা হয় স্বপ্নচুড়া পিকনিক স্পট। এখানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হেঁটেই যাওয়া যায়। একঘেয়ে জীবনের ক্লান্তি, অবসাদ, জড়তা দূূূর করতে স্থানটি টনিক হিসেবে কাজ করবে যে কারোরই।

অবশেষে চলে আসে সেই দিন যার জন্য আমরা সবাই কয়েকদিন ধরে কাজ করে চলেছি।অনেকেই নিজের সকল কাজকর্ম ছেড়ে এই দিনকে রঙিন করতে দিনরাত এক করে দিয়েছে। পিকনিক মানেই খাবারদাবারের এক বিরাট পরিকল্পনা। তার কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, সেটা পরের বিষয়। তাই সকাল থেকে শুরু হয় বাজারের মহাযজ্ঞ। যদিওবা আগের দিনই আমরা সবকিছু কেনাকাটা করে রেখেছিলাম শুধু আলু, বেগুন ইত্যাদি সবজি বাদে এবং এগুলো এত সকালে দোকান থেকে নিয়ে আসা চ্যালেন্জের বিষয় ছিল ।কয়েকজন মিলে চলে যায় বাজার সদাই আনতে আর কয়েকজন কাজ করে স্বপনচুড়ার খাবার স্থানটিকে সাজাতে।

সবার সহযোগিতায় দুপুরের মধ্যে রান্নার আয়োজন শেষ হয় এবং শিক্ষকদের আগমন শেষে শুরু হয় মধ্যাহ্নভোজ। এরপরই শুরু হয় আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিলো র‍্যাফেল ড্র, ম্যাজিক বাক্স সাথে কিছু ইনডোর গেমস যা পুরো অনুষ্ঠানকে অন্য মাত্রা যোগ করে। সকল কিছু একে একে শেষ হতে হতে অনুষ্ঠানটি সমাপ্তির দিকে এগোতে থাকে। দিনের সবকিছু শেষে আমরা সবাই যার যার নীড়ে ফিরে আসি।

বনে কিংবা নদীর ধারে না হলেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বাইরে এই একটা দিন ছোট-বড় ভুলে একসঙ্গে থেকে হাসি ঠাট্টায় কাটানোর স্মৃতি আমাদের সবাইকে তৃপ্ত করে তুলবে আজীবন।

লেখক: সভাপতি, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়।
এই লেখাটি ১৬ আগস্ট ২০২৩ তারিখে protidinerbangladesh পত্রিকায় প্রকাশিত।
লিংক কপি হয়েছে!