কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ব্যাংকিং সেবার নামে হয়রানি বন্ধ হোক

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ব্যাংকিং সেবার নামে হয়রানি বন্ধ হোক
লালমাটির ক্যাম্পাসখ্যাত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) মোট ১৯ টি ডিপার্টমেন্টে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আাসা প্রায় সাত হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। একসময় এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভর্তি ফি, পরীক্ষার ফি এবং অন্যান্য সকল লেনদেনের একমাত্র মাধ্যম ছিলো ক্যাম্পাসের জনতা ব্যাংক।এখন অনলাইনে দেওয়া গেলেও তা আংশিক।আগে যেকোনো লেনদেনের সময় ব্যাংকের রশিদ পূরণ তা লাইনে দাঁড়িয়ে জমা দেওয়া, আবেদনপত্র পূরণ ও তাতে নিজ নিজ হল প্রভোস্টের স্বাক্ষর নিয়ে আসতে হতো। এছাড়াও লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা ও রশিদ পূরণে ভুল হলে শিক্ষার্থীদের নানা দুর্ভোগ পোহাতে হয়।আর টাকা জমার রশিদ হারিয়ে ফেললে তা পুনরায় সংগ্রহ করতে ভোগান্তির শেষ নেই। আবার প্রতি বছর চান্সপ্রাপ্ত নতুন শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে স্ব শরীরে গিয়ে টাকা জমা দিতে হয় যা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
বর্তমানে কুবি প্রশাসনের সহায়তায় অনলাইনে ফি দেওয়া গেলেও আবারো হল ফি, ডিপার্টমেন্ট ফি জমা দিতে সেই লাইনেই দাড়াতে হয় অর্থাৎ অনলাইনে একাংশ ফি জমা দিয়ে পুনরায় সেই ফি এর রশিদ তুলে প্রিন্ট করতে হয়। আর বাকি হল ফি, ডিপার্টমেন্টের ক্লাব ফি সহ ইত্যাদি স্বশরীরে গিয়ে জমা দিয়ে রশিদ নিয়ে আবারো হল প্রভোস্টের কাছে স্বাক্ষরের জন্য যেতে হয়। তাছাড়াও সেই গেটওয়েতে গিয়ে ফি জমা দিতে চার্জ ফিও পরিশোধ করতে হয়। আগে শুধু সময় খরচ হতো এখন সময় ও টাকা উভয়ই খরচ হচ্ছে। প্রশাসন পদ্ধতি সহজ করতে গিয়ে উল্টো জটিল করে তুলেছে, বেড়েছে শিক্ষার্থীদের হয়রানি।
ডিজিটাল বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ব্যাংকিং সেবার মানোন্নয়ন খুবই যৌক্তিক দাবি। কিন্তু সেই সেবার নামে সেমি ডিজিটাল পদ্ধতি চালু খুবই হতাশাজনক। যেখানে শিক্ষার্থীদের সুবিধা বৃদ্ধি করতে গিয়ে নতুন সমস্যার সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে অন্যান্য সকল সমস্যা সমাধানের সাথে যুগোপযোগী ওয়েবসাইট ও অনলাইন ব্যাংকিং সেবার আধুনিকায়নও প্রত্যাশিত।
আল মাসুম হোসেন
শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
সভাপতি, বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম কুবি শাখা।
01618600028

