লেখক ফোরামের আলোচনায় “জাতি কেন ব্যর্থ হয়”

লেখক ফোরামের আলোচনায় “জাতি কেন ব্যর্থ হয়”
ডারোন আসিমোগলু ও জেমস এ রবিনসন তাঁদের বই হোয়াই নেশনস ফেইল: দ্য অরিজিনস অব পাওয়ার, প্রসপারিটি অ্যান্ড পোভার্টি-এ একটি জাতির ব্যর্থতার কারণগুলো ব্যাখ্যা করেছেন।এই বইটি ব্যাখ্যা করে যে একটি দেশের সফলতা বা ব্যর্থতার মূল কারণ হলো তার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান। ভৌগোলিক, সাংস্কৃতিক বা প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, বরং একটি দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অথবা শোষণমূলক প্রতিষ্ঠানই মূল পার্থক্য গড়ে তোলে।
বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় উক্ত বইটি খুবই অর্থবহ। আমরা এমন একটি সময় অতিবহিত করছি যখন বিপ্লব প্রায়শই ব্যার্থ বলা চলে। আর জাতিগতভাবে আমরা সফল কখনোই নই। তাই বাংলাদেশ তরুণ কলাম লেখক ফোরাম, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বর্তমান উপদেষ্টা ও আর্কিওলজি বিভাগের এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মুতাসিম বিল্লাহ স্যারের আলোচনার মূল বিষয় ছিলো হোয়াই নেশনস ফেইল বা জাতি কেনো ব্যার্থ হয়। পাঠচক্রটি মুক্ত বাতাসে ও গাছের নিচে ফরেস্ট অব আর্ডেনে অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বইয়ের আলোচনার মূল বিষয়বস্তু আমাদের দেশের সাথে তুলনামূলক ভাবে বিশ্লেষণ করে সবার মাঝে উপস্থাপন করেন। আলোচনার চুম্বক অংশ তুলে ধরা হলো-
হোয়াই নেশনস ফেইল বইটি লেখকদের ৩০০ টির বেশি গবেষণাকর্মের ফলাফলের বিশ্লেষণ। বইয়ে লেখকগণ বলেন দেশে দুইধরনের প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে যেমন প্রথমটি হলো এক্সট্রাকটিভ বা শোষণমূলক আর দ্বিতীয়টি হলো ইনক্লুসিভ বা অন্তর্ভুক্তিমূলক। ইনক্লুসিভ প্রতিষ্ঠানগুলোই সমৃদ্ধির মূল চাবিকাঠি। আমাদের দেশের সাথে তুলনা করতে গিয়ে স্যার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কথা তুলে ধরেন। আবার দেশের রাজনৈতিক ব্যাবস্থার কথা বলতে গিয়ে বলেন রাজনীতি সঠিক ও সুষ্ঠ না হলে রাষ্ট্রের বিকাশ ঠিক মতো হয় না। তিনি ইনক্লসিভ প্রতিষ্ঠানের সাফল্য বর্ণনা করতে গিয়ে বই থেকে বিভিন্ন উদাহরণ টেনে আনেন যেমনঃ উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া,পশ্চিম ইউরোপ ও পূর্ব ইউরোপ,আমেরিকা ও মেক্সিকো ইত্যাদি দেশের মানুষজনের জীবনব্যবস্থার পার্থক্য নিয়ে আলোকপাত করেন।যেমন একই ভূগোল, সংস্কৃতি, কিন্তু মার্কিন অংশ উন্নত – কারণ সেদিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিষ্ঠান, আর মেক্সিকো অংশে দুর্নীতি ও দুর্বল প্রশাসন। অর্থাৎ কোনো দেশের অর্থনৈতিক সাফল্য বা ব্যর্থতা ভৌগোলিক অবস্থান, সংস্কৃতি বা প্রাকৃতিক সম্পদের দ্বারা নির্ধারিত হয় না। নির্ধারিত হয় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। উপরের দেশগুলোই তার বড়ো উদাহরণ।
বইয়ের সবচেয়ে বড়ো খোঁজ হলো “ইতিহাস নির্মিত হয় সংকটকালীন সন্ধিক্ষণ দ্বারা”। আর এই সংকটকলাীন মূহুর্তগুলো হলো কোনো বিপ্লব, গণঅভ্যুত্থান কিংবা যুদ্ধ ইত্যাদি। সফল বিপ্লব যেমনটা ইংল্যান্ডে ১৬৮৮ সালের “গ্লোরিয়াস রেভ্যুলেশন” রাজতন্ত্র থেকে সংসদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়, যা পরবর্তীতে গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির পথ তৈরি করে। উনি আরো বলেন আমাদের দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সিস্টেমের কারণেই যেই ক্ষমতায় যাক না কেনো সকলেই স্বৈরাচারী হয়ে উঠে। তাই আমাদের সিস্টেমে পরিবর্তন জরুরি তবেই উন্নতি সাধন সম্ভব।
সকল কথার মূল কথা যেসব জাতিতে ক্ষমতা সীমিত গোষ্ঠীর হাতে থাকে এবং প্রতিষ্ঠান শোষণমূলক হয়, তারা ব্যর্থ হয়। পক্ষান্তরে, যেসব জাতি তাদের প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করে গড়ে তোলে, তারা উন্নতির পথে অগ্রসর হয়।তাই বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষামূলক, অর্থনৈতিক কিংবা রাজনৈতিক ইত্যাদি সকল প্রতিষ্ঠানের সিস্টেমে পরিবর্তন আনতে হবে।
আল মাসুম হোসেন
শিক্ষার্থী, ফার্মেসি বিভাগ
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
01936725911
masumalhasan210@gmail.com

