নারী নির্যাতন আইনের অপব্যবহার
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের কঠোর বিধানের সুযোগ নিয়ে আজকাল প্রায়ই ব্যক্তিগত বিরোধ বা শত্রুতার কারণে মিথ্যা মামলা দায়েরের অভিযোগ ওঠে। ফলে নির্দোষ ব্যক্তি দীর্ঘ দিনের আইনি জটিলতার মধ্যে পড়েন। অন্যদিকে প্রকৃত ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনেক সময় প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে ওঠে। যার কারণে বিচার ব্যবস্থার ওপর জনসাধারণের আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী ন্যায্য কারণ ব্যতীত কাউকে হয়রানির উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলা দায়ের করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ; যার সর্বোচ্চ শাস্তি সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড। একই সঙ্গে দণ্ডবিধির ২১১ ধারা মোতাবেক, কেউ জেনে বুঝে মিথ্যা ফৌজদারি মামলা দায়ের করলে তার শাস্তি সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধানও রয়েছে।
তবে মামলা প্রমাণিত না হলেই সেটি মিথ্যা মামলা এমন নয়। অনেক ক্ষেত্রে ত্রুটিপূর্ণ তদন্ত, সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাব ইত্যাদি মামলাকে প্রমাণহীন করে তোলে। তাই মিথ্যা অভিযোগ ও প্রমাণে ব্যর্থ অভিযোগের মধ্যে পার্থক্য করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অতএব সঠিক তদন্ত, সাক্ষীর সুরক্ষা, দ্রুত বিচার সর্বোপরি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে আইনের অপব্যবহার কমানো এবং প্রকৃত অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করা সহজ হবে।
Source: https://www.protidinersangbad.com/todays-newspaper/campus/578036
